ট্রাক থেকে ৮৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, ধৃত দুই

738

কোচবিহার: করোনাকে ঢাল করে গাঁজা পাচার অব্যাহত কোচবিহার জেলায়। বৃহস্পতিবার রাতে গাঁজা পাচারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করল নিশিগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃতরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক এবং খালাসি বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের বাড়ি পঞ্জাবের পাতিয়ালায়। ধৃতদের গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিশেষভাবে প্যাকেট করা প্রায় ৮৯ কেজি গাঁজা।

ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিশিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি সহ পুলিশ আধিকারিকরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোচবিহার-মাথাভাঙ্গা রাজ্য সড়কে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজার প্যাকেটগুলি উদ্ধার করেন। লকডাউনের পর থেকেই কখনও সবজিবোঝাই গাড়ি বা কখনও বা পণ্যবাহী গাড়িকে ঢাল করে গাঁজা পাচার চলছে। নিশিগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশও বেশকয়েক জন পাচারকারীকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গাঁজাও উদ্ধার করেছে।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অবৈধ গাঁজা চাষ হয়। পুলিশ ও আবগারি দপ্তর বিভিন্ন সময় গাঁজা চাষ বন্ধে সতর্কতার প্রচার চালানোর পাশাপাশি গাঁজা গাছ কেটে পুড়িয়েও দিয়েছে। তবু বিভিন্ন নদী চর এলাকার সঙ্গে কৃষিজমিতেও গাঁজা চাষ চলছে। হঠাৎ লকডাউনের ফলে এবার বিপাকে পড়ে গাঁজার চোরাকারবারিরা। লকডাউন ও করোনা আবহে ভিন রাজ্যের পাচারকারীরা সহজে আসতে পারছেন না এলাকায়। ফলে কৌশল বদলে চলছে গাঁজা পাচার। তবে ধরাও পড়ছে পাচারকারীরা।

২৮ অগাস্ট একটি বিহার নম্বর প্লেটের ছোট গাড়ি সহ আটক করা হয় ১ গাঁজা পাচারকারীকে। ১ অগাস্ট নিশিগঞ্জে মুর্শিদাবাদের দুজন ব্যক্তি গাঁজা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়। ১৭ জুলাই টোটো করে গাঁজা নিয়ে যাওয়ার সময় দুজনকে পাকড়াও করে নিশিগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। তবে করোনা আবহে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে সবজির গাড়িতে করে একাধিকবার গাঁজা পাচারের চেষ্টা করা হলেও তা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ।

১০ জুন বিপুল পরিমাণ গাঁজা সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কোচবিহার-মাথাভাঙ্গা রাজ্য সড়কের নিশিগঞ্জে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির চেকপোস্ট এলাকায় একটি সবজিবোঝাই পিকআপ ভ্যান থেকে ৮৩ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়। ধৃতদের বাড়ি বালুরঘাট থানা এলাকায়। নিশিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ও পুলিশকর্মীরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালান।

নিশিগঞ্জ চেকপোস্টের সামনে থেকে গাড়িটিকে আটক করা হয়। বিশেষভাবে প্যাকেট করা ৯টি প্যাকেট থেকে প্রায় ৮৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়, কোচবিহার কোতোয়ালি থানার চান্দামারি, পাটছড়া এলাকায় সবজির সঙ্গে গাঁজা ভর্তি করে গাড়িটিতে তোলা হয়। গাড়িটি বালুরঘাটের দিকে যাচ্ছিল।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে একই কায়দায় সবজিবোঝাই দুটি পিকআপ ভ্যান থেকে গাঁজা উদ্ধার করে নিশিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি। ২৯ মে একটি ট্রাক থেকে ১০২ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। তিনটি ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিশিগঞ্জে পুলিশের তৎপরতায় লকডাউনের মধ্যেই মে মাসে চারবার গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

৬ মে নিশিগঞ্জ পশ্চিম চকিয়ারছড়া এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে উদ্ধার হয় ৩১ কেজি গাঁজা। ৯ মে নিশিগঞ্জে একইরকমভাবে সবজিবোঝাই পিকআপ ভ্যান থেকে ৫৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। ২৯ মে মানাবাড়ি এলাকায় একটি ট্রাক থেকে উদ্ধার হয় ১০২ কেজি গাঁজা। সেই ট্রাকটির গায়ে আবার ‘আর্মি ডিউটি’ স্টিকার লাগানো ছিল।

কোচবিহার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ গাঁজা চাষ বন্ধে পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলেও তবুও লুকিয়ে প্রচুর গাঁজা চাষ হয়েছে। লকডাউন ও আনলক পরবর্তী সময়ে জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পণ্য পরিষেবার গাড়িকে ঢাল করে গাঁজা পাচারের কয়েকটি ঘটনা জেলা পুলিশের তৎপরতায় রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।