ভগবতীর চোখের ভাষা খুঁজে পেল মনের মানুষ

183

শান্ত বর্মন, জটেশ্বর : জন্মের পর থেকেই দুজনের মুখে কথা নেই। তবে তাতে কী! চোখের ভাষা তো রয়েছে। তাতেই ভর করে দুজনের কথোপকথন এগিয়েছে নীরবে। সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে। এবার তাতে পাকাপাকি সিলমোহর। ফালাকাটা ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা ঝাড়বেলতলি থেকে বড় হয়ে ওঠা ভগবতী সরকার আর জলপাইগুড়ির ক্রীড়াপ্রেমী অসীম পণ্ডিতের পরিণয় পরিণতি পেল। বৃহস্পতিবার রাতে চার হাত পাকাপাকিভাবে এক হল। ভ্যালেন্টাইন্স ডে এখনও এক সপ্তাহেরও বেশি দূরে। কিন্তু যেভাবে ভগবতী-অসীমের প্রেম তার আগেই সাতপাকে বাঁধা পড়ল, তা যে কোনও হিট সিনেমার স্ক্রিপ্টকে পাল্লা দেবে। বিয়ের আসরে উপস্থিত সবার প্রশংসার সুবাদে বর-কনের মুখে লজ্জার হাসি। পরিবারের সদস্যদের মুখেও সেই হাসি।

ভগবতী জন্ম থেকেই মূকবধির। বিশেষভাবে সক্ষমদের স্কুলে তার পড়াশোনা শুরু। মুখে সেভাবে রা কাড়তে না পারলেও খেলার মাঠে তার সঙ্গে পাল্লা ঠোকাটা বেশ মুশকিলই ছিল। খেলাধুলোয় দুরন্ত মেয়েটির নাম ছোটবেলা থেকেই ছড়াতে থাকে। এই সুবাদেই অ্যাথলেটিক্সে দারুণ ভালো ফল করে চলা ভগবতীর সুনাম জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে তার রাজ্য তো বটেই, জাতীয়স্তরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যস্ত থাকার সুবাদে বয়স কখন যে কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পড়ল ভগবতী নিজেও তা খেয়াল করেননি। মাস ছয়েক আগে জলপাইগুড়িতে প্র‌্যাকটিস চলাকালীন মনের মানুষটির সঙ্গে দেখা। জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরের বাসিন্দা অসীম এক শপিং মলের কর্মী। প্রথম দেখাতেই লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট। মনের মানুষকে বেছে নিতে দুজনের কারও দেরি হয়নি। প্রেম হলেও তাতে অবশ্য দুজনের কারও লুকোছাপা ছিল না। পরিবারের সম্মতিও ছিল।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকেই দুই পরিবারেই খুশির বাঁধ ভেঙেছে। ভগবতীর বাবা সীতানাথ সরকার বলেন, আমার তিন মেয়ে এক ছেলে। বড় আর ছোট মেয়ে আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মেজটার বিয়ে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মা দুলালিদেবীর কথায়, অবশেষে এবার নিশ্চিন্ত। দিদি সরস্বতী বলছেন, এতটা ধুমধাম করে বোনের বিয়ে দিতে পারব তা ভাবতেও পারিনি। নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করে খগেনহাট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সচিব লক্ষ্মীকান্ত রায় বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলো নিয়ে ভগবতী যাতে বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য গত ১১ বছর ধরে আমরা বহু পরিশ্রম করেছি। জাতীয়স্তরের অ্যাথলিট হিসাবে ওকে গড়ে তুলতে পেরে আমাদের আনন্দের সীমা ছিল না। ওর বিয়েছে সেই আনন্দ আরও বেড়ে গেল।