কানকি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিনশো রোগী সামলাতে ডাক্তার দুজন

52

তপনকুমার বিশ্বাস, কানকি : কানকি গ্রাম পঞ্চায়েত। কিশনগঞ্জ থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরত্বে উত্তর দিনাজপুর জেলায় গোয়ালপোখর-২ ব্লকে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা মাত্র এক। চিকিৎসক আছেন মাত্র দুজন। শয্যাসংখ্যাও অপর্যাপ্ত, পনেরোটি। সাকুল্যে চারজন নার্স আছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এদিকে এলাকার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নিজামপুর-১ এবং ২, সূর্যাপুর-১ এবং ২, বেলন গ্রাম পঞ্চায়েত এমনকি বিহার থেকেও বাসিন্দারা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আসেন। সারাদিনে রোগীর গড় সংখ্যা প্রায় তিনশো। কিন্তু মাত্র দুজন চিকিৎসক এবং চারজন নার্স রোগীর এই বিপুল সংখ্যার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে কানকি প্রাথমিক স্বস্থ্যকেন্দ্রটিকে আধুনিক মানের হাসপাতালে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কানকি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মহম্মদ আবুল হুসেনের কথায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানিয়েছি। সমস্যা হলেও দুজন চিকিৎসককে দিয়ে পরিষেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, কানকি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে রুরাল হাসপাতাল অথবা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার মতো কোনও প্রস্তাব এখনও আমাদের দপ্তরে আসেনি। প্রস্তাব এলে নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিকচন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

শিলিগুড়ি-কিশনগঞ্জ ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের একেবারে পাশেই এই কানকি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এলাকায় চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। আশপাশের গ্রাম পঞ্চায়েগুলিতে গ্রামীণ হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় কানকি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপরেই গ্রামবাসীদের ভরসা করে থাকতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নিযোগ করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্যস্ত রাস্তা হওয়ায় রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়দিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগে থাকে। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয় প্রায় ৪৫ কিমি দূরে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে। কয়েক কিমি দূরে চাকুলিয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে বটে, কিন্তু অনেকটা ঘুরপথে যেতে হয় সেখানে। এই অবস্থায় আপত্কালীন পরিস্থিতিতে নাজেহাল হতে হয় রোগীর পরিজনদের। অথচ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেই জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণ করে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা যেতেই পারে।

এলাকার বাসিন্দা ধ্রুবপ্রসাদ গুপ্তার কথায়, আমাদের এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে অনেককেই বাইরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে বড় মাপের হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হবে বলে অনেকদিন ধরেই শুনে আসছি। কিন্তু আজও অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। আরেক বাসিন্দা আনন্দ সিংহের বক্তব্য, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে চিকিৎসার কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন আউটডোর, ইন্ডোর পরিষেবা পাওয়া যায়। চিকিৎসকরাও দিনরাত থাকেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু দিন-দিন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ বাড়ছে। ফলে মাত্র দুজন চিকিৎসক থাকায় রোগীদের সঠিক পরিষেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ মোস্তফা বলেন, আমাদের নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন কানকি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে উন্নতমানের হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর উদ্যোগ থমকে যায়। সরকার ইচ্ছে করলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়নে পদক্ষেপ করতে পারে।