ডুয়ার্সে তৃণমূলের প্রচারে মোর্চার দুই শিবির 

53

পূর্ণেন্দু সরকার জলপাইগুড়ি : রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা কি একেই বলে?  পরস্পরের বিরোধিতা করলেও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং ও বিনয় তামাং গোষ্ঠী ডুয়ার্সে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার শুরু করায় সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ঘাসফুল শিবিরের হয়ে প্রচারে মোর্চার দুই শিবিরই বিজেপি বিরোধিতাকেই তাদের মূল ইস্যু করেছে। প্রচারে কেন্দ্রীয় সরকারের নানা অনুন্নয়নকে তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকে সবার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রচারে পৃথক রাজ্যের কোনও দাবি যাতে না তুলে ধরা হয় সে বিষয়ে মোর্চার দুই শিবিরকে পইপই করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডুয়ার্সে মোর্চার দুই শিবিরের হয়ে প্রচারে বিমল গোষ্ঠীর পক্ষে গুরুংয়ের একসময়ে ছায়াসঙ্গী তথা পশ্চিমবঙ্গ তরাই-ডুয়ার্স-শিলিগুড়ি গোর্খা উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সম্পাদক সন্দীপ ছেত্রী গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। অন্যদিকে, বিনয় গোষ্ঠীর হয়ে তাদের কোঅর্ডিনেটর তথা ডুয়ার্সে গোর্খা টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান বিনোদ ঘাতানি প্রচারে শামিল হয়েছেন। দুই নেতা এখন আলাদা শিবিরের হলেও গুরুং ও বিনয় যখন একসঙ্গে ছিলেন তাঁরাও তখন এক শিবিরেই ছিলেন। গুরুং পরে বিজেপির দিকে ঝোঁকেন। ঘাসফুলের সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও পরে নানা চাপানউতোর পর্ব পেরিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে থাকবেন বলে গতবছর স্পষ্ট করেন। অন্যদিকে বিনয় তামাং, অনীত থাপারা তৃণমূলের সঙ্গে থেকে জিটিএ-তে ক্ষমতায় আসীন হন। তাঁরা এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন।

- Advertisement -

সন্দীপ ২০১৭ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। পরে তৃণমূলের জেলা সম্পাদক হন। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ২০০৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত তরাই-ডুয়ার্স ও পাহাড়ের গোর্খাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভোটব্যাংকের কাজে ব্যবহার করেছে। ওরা বাস্তবে আমাদের কোনও কাজেই আসেনি। ২০০৯ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে সমর্থন করলেও গোর্খারা আখেরে কিছুই পাননি। সন্দীপ বলছেন, অন্যদিকে গত ১০ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে তৃণমূল সরকার একটি টাস্ক ফোর্স এবং গোর্খা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ডের মাধ্যমে আমরা উন্নয়নমূলক বহু কাজই করেছি। পাহাড়ে একাধিক জনজাতির জন্য দিদি উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেছেন।

নির্বাচনি ইস্তাহারে তৃণমূল আমাদের জন্য নেপালি ভাষায় স্কুল তৈরির আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু ডুয়ার্স ও পাহাড়ের ১১টি জনজাতির স্বীকৃতি দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের কাছে আগেই প্রস্তাব পাঠালেও বিজেপি সরকার কিছুই করেনি। আমাদের হাত ধরেই তরাই-ডুয়ার্স ও পাহাড়ে পদ্ম ফুটেছিল। কিন্তু আর নয়। আমাদের হাত ধরেই ডুয়ার্সে ঘাসফুল ফুটবে। বিমল গুরুং ৯ এপ্রিল থেকে ডুয়ার্সের বিভিন্ন গোর্খা অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার করবেন। আমি তাঁকে সেই সমস্ত জায়গায় নিয়ে যাব।

বিনয় তামাং গোষ্ঠীর মোর্চার কোঅর্ডিনেটর বিনোদ ঘাতানি বলছেন, আমরা তৃণমূলের সঙ্গেই ছিলাম, আছিও। বামেদের পাশাপাশি আমরা বিজেপির কাছ থেকেও কিছু পাইনি। এনআরসি নিয়ে বিজেপি আমাদের বিপদে ফেলতে পারে। কারণ বংশপরম্পরায় আমরা ডুয়ার্স ও পাহাড়ে বসবাস করলেও আমাদের অনেকেরই কাছে জন্ম শংসাপত্রের মতো পুরোনো নথিপত্র নেই। অনুন্নয়ন, এনআরসি প্রভতি ইস্যুতে আমরা জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার গোর্খা অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করছি।

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ২০-২২ শতাংশ, মালে ১৮ শতাংশ এবং ধূপগুড়ির বানারহাট, চামুর্চি, বিন্নাগুড়ি এলাকায় ১২-১৫ শতাংশ গোর্খা ভোটার রয়েছেন। মোর্চার দুই শিবিরের নেতারা ডুয়ার্সে ছোট ছোট কর্মীসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কাজের তুলনামূলক প্রচার চালাচ্ছেন।

তৃণমূলের জলপাইগুড়ির সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোর্খাদের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। তাই গোর্খারা আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। এবার যাতে আগের মতো ভুল বুঝিয়ে বিজেপি গোর্খাদের ভোট লুট না করতে পারে সেজন্য গোর্খা নেতারা আগে থেকেই সতর্ক রয়েছেন। বিজেপির জলপাইগুড়ির সভাপতি বাপি গোস্বামীর বক্তব্য, কেন্দ্রের টাকাতেই ডুয়ার্সের চা বাগান এলাকায় ১০০ দিনের কাজ, রেশন পরিষেবার ব্যবস্থা হয়েছে। পৃথক রাজ্যের দাবিদারদের নিয়ে তৃণমূল প্রচারে নেমেছে। বিষয়টিকে ডুয়ার্স মোটেই ভালো চোখে দেখবে না।