জয়ী সেতু তৈরির কৃতিত্ব নিয়ে প্রচার শুরু দুই ফুলের 

136

মেখলিগঞ্জ: মেখলিগঞ্জে তিস্তা নদীর উপর জয়ী সেতু এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এই তিস্তা সেতুর দাবিই বরাবর রাজ্যের ১নং মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক এবং বিরোধী উভয় দলেরই ভোট প্রচারের অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবারও এই তিস্তা সেতু ভোট প্রচারের মূল হাতিয়ার হতে চলেছে। তবে এবার ইস্যু, সেতু তৈরির কৃতিত্ব কার?

সেতু তৈরি নিয়ে নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করে ইতিমধ্যেই অবশ্য প্রচার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দুই ফুল অর্থাৎ জোড়াফুল ও পদ্মফুল। এতে ব্যাপক সাড়া পড়ছে বলেও তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির নেতারা দাবি করেছেন। তৃণমূলের বক্তব্য, মেখলিগঞ্জ মহকুমায় তিস্তা নদীর উপর পাকা সেতুর বিষয়ে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরেই উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করা হয়।

- Advertisement -

বিজেপি নেতারা অবশ্য দাবি, ছিটমহল বিনিময় চুক্তিতে নব্য ভারতীয়দের উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই তালিকায় তিস্তা সেতুও ধরা ছিল। অর্থাৎ কেন্দ্রের টাকায় তিস্তায় সেতুর কাজ সম্পন্ন হবার পথে। তাই কৃতিত্ব বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের। দাবি করতে পিছিয়ে নেই বামফ্রন্টও। তাদের বক্তব্য তিস্তা সেতু বামেদের আন্দোলনের ফসল। সব মিলিয়ে তিস্তা সেতুর কথা বলে এবারও মেখলিগঞ্জ মহকুমা এলাকায় বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছেন ডান-বাম, শাসক বিরোধী সব দলের নেতারাই।

মেখলিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান জানিয়েছেন, এতদিন অবধি ভোট এলেই সকলের তিস্তা সেতুর কথা মনে পড়ত। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। বর্তমানে এই সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এই সেতু তৈরির পুরো কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেই তাঁরা মনে করেন। বিজেপির মেখলিগঞ্জ দক্ষিণ মণ্ডল কমিটির সভাপতি দধিরাম রায় এবং শহর মণ্ডল কমিটির সভাপতি রাজীব সিংহ সরকার জানান, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের টাকায় তিস্তায় সেতু তৈরি হচ্ছে। যেটা সকলেই জানেন। তাই তৃণমূল এনিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হবে না। পুরো কৃতিত্ব তাঁদের অর্থাৎ বিজেপির।

বামফ্রন্টের নেতা তথা সারাভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের মেখলিগঞ্জ লোকাল কমিটির সম্পাদক অজিত বর্মন জানান, তিস্তায় পাকা সেতু গড়ার বিষয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন। সেই আন্দোলনের ফলেই তিস্তায় সেতু তৈরি হচ্ছে।