গৌরহরি দাস,  কোচবিহার : রাজবাড়ির ছয়জন কর্মীকে কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ। আর কর্মীর অভাবে প্রায় তিনমাস ধরে রাজবাড়ির জাদুঘরে তিন ও চার নম্বর গ্যালারি বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোচবিহারের রাজবাড়ি দেখতে আসা পর্যটকরা রাজাদের এবং সেই আমলের নানা জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখতে পাচ্ছেন না। ২৫ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে রাজবাড়িতে ঢোকার পরে বন্ধ গ্যালারি দেখে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ দুটি গ্যালারি বন্ধ করে রাখায় ক্ষুব্ধ কোচবিহারের বিভিন্ন সংগঠন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বসিয়ে রাখা কর্মীদের ফের কাজে নিযুক্ত করে গ্যালারি খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও ওই গ্যালারি দুটি ফের কবে খোলা হবে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। রাজবাড়ির জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের আধিকারিক ডঃ সুনীলকুমার ঝা বলেন, ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সরাসরি কোনো কর্মী রাখবে না। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাদুঘরের ১৮ জন কর্মীর মধ্যে ১২ জন মামলা করেছিলেন। আদালত তাঁদের ঠিকাদারের অধীনে আনার প্রক্রিয়ায় স্টে অর্ডার দিয়েছে। কিন্তু পরের ছয়জন স্টে অর্ডার পাননি। আবার তাঁরা কনট্রাকচুযাল হিসাবেও কাজ করতে রাজি নন। তাই তাঁদের কাজে নেওয়া সম্ভব হয়নি।একবিংশ শতকের শুরুতে রাজবাড়ির চারটি ঘর নিয়ে জাদুঘর চালু করা হয়। জাদুঘরের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ ক্রমশ বাড়তে থাকায় ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে আটটি গ্যালারি তৈরি করা হয়। রাজবাড়ি বর্তমানে কোচবিহারের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক রাজবাড়িতে বেড়াতে আসেন। এই পরিস্থিতিতে রাজবাড়িতে প্রায় তিনমাস ধরে দুটি গ্যালারি বন্ধ থাকায় বিভিন্ন সংগঠন ক্ষুব্ধ।

এটা তঞ্চকতা

কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির সম্পাদক অরূপজ্যোতি মজুমদার বলেন, পর্যটকদের থেকে ২৫ টাকা করে টিকিটের দাম নেওয়া হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ কর্মীর অভাবে জাদুঘরের গ্যালারি বন্ধ করে রেখে দেবে? এটা পর্যটকদের সঙ্গে তঞ্চকতা ছাড়া আর কিছু নয়। রাজবাড়ি ও কোচবিহারের স্বার্থেই অবিলম্বে ওই গ্যালারি দুটি খোলা দরকার।

পর্যটকদের বঞ্চনা

কোচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি ওয়েফেয়ার ট্রাস্টের সভাপতি কুমার জিতেন্দ্র নারায়ণ বলেন, গ্যালারি দুটি বন্ধ করে রেখে রাজবাড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে বঞ্চনা করছে কর্তৃপক্ষ। বসিয়ে রাখা কর্মীদের নিযুক্ত করে অবিলম্বে গ্যালারি দুটি খুলতে হবে। তা না হলে আমরা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হব।

দুঃখজনক

কনসর্টিয়াম অফ কোচ রয়্যাল ফ্যামিলিজ-এর সম্পাদক কুমার সুপ্রিয় নারায়ণ বলেন, রাজবাড়ি একটা দর্শনীয় স্থান। অনেক আগ্রহ নিয়ে এত টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মানুষ রাজবাড়ি দেখতে আসেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কর্মীর অভাবে যদি গ্যালারি বন্ধ করে রেখে দেয়, তাহলে তা দুঃখজনক। অবিলম্বে ওই গ্যালারি খোলা দরকার। পাশাপাশি রাজবাড়িতে আরও অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র রয়েছে। সেসবও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা দরকার।

পর্যটনশিল্প মার খাবে

অ্যাসোসিয়েন বেটার অফ কোচবিহারের সম্পাদক আনন্দজ্যোতি মজুমদার বলেন, পর্যটকরা রাজবাড়িতে আসেন গ্যালারিতে রাজাদের ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখার জন্য। গ্যালারি এভাবে বন্ধ থাকলে রাজবাড়ির প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ কমে যাবে। এতে কোচবিহারের পর্যটনশিল্প মার খাবে। যা কখনোই কাম্য নয়।