তাসখন্দে রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপে আজ লড়াই ২ বাগান-কন্যার

110

সুভাষচন্দ্র বসু, বেলাকোবা : উজবেকিস্তানের তাসখন্দে সপ্তম এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপে আজ খেলতে নামছে বেলাকোবার চা শ্রমিক পরিবারের দুই মেয়ে সোনালি ওরাওঁ ও নিকিতা ওরাওঁ। দুজনই রাজগঞ্জ ব্লকের মান্তাদারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত সরস্বতীপুর চা বাগানের বাসিন্দা।

রাগবির রাজ্য মহিলা দলের কোচ রোশন খাঁখাঁ জানান, ভারতীয় রাগবি দলে মোট ১৪ জন মনোনীত হয়েছেন। ১৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁরা ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ১৪ জনের মধ্যে বাংলা থেকে সোনালি ও নিকিতা প্রতিনিধিত্ব করবেন। এছাড়া মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ওডিশা থেকে তিনজন করে, বিহার থেকে দুজন এবং গোয়া থেকে একজন রয়েছেন। সূত্রের খবর, ওডিশার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত জাতীয় শিবিরে গোটা দেশ থেকে ৫০ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে বাংলা থেকে ১০ জন ছিলেন। যাঁদের মধ্যে আটজনই সরস্বতীপুর চা বাগানের বাসিন্দা। চূড়ান্ত পর্বে  মনোনীত ১৪ জন দিল্লি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

- Advertisement -

সোনালি ও নিকিতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাসখন্দ থেকে তাঁরা জানান, জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে তাঁরা খুবই খুশি। প্রথমবার দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক রাগবি প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। দুজনেরই দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, সরস্বতীপুর চা বাগান থেকে এর আগেও যাঁরা আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য জয় এনে দিয়েছিলেন, তাঁরাও সেই সম্মান বজায় রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করবেন।

এদিকে চরম দারিদ্র‌্যের সঙ্গে লড়াই করে মেয়ে যে শেষপর্যন্ত জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে, সেটা যেন সোনালির মা স্বপ্না ওরাওঁ বা নিকিতার মা সুমিতা ওরাওঁ কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। স্বপ্না ও সুমিতা দুজনই পেশায় বাগান শ্রমিক। দুজনই জানান, অনেক কষ্ট করে মেয়েদের খেলা চালিয়ে যেতে উত্সাহ জুগিয়ে এসেছেন। কারও কাছ থেকে কোনওরকম সাহায্য পাননি। এর আগে এই চা বাগান থেকে সন্ধ্যা রাই, সঞ্জু ওরাওঁ, লক্ষ্মী ওরাওঁ, পুনম ওরাওঁ, তনুজা ওরাওঁ প্রমুখ দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক একাধিক খেলায় সুনাম অর্জন করেছেন।

রোশন খাঁখাঁর কথায়, সরস্বতীপুর চা বাগানের একাধিক মহিলা প্রতিযোগী রাগবি প্রতিযোগিতায় দেশকে সম্মান এনে দিয়েছে। কিন্তু চা বাগান কর্তৃপক্ষ বা সরকার এই মেয়েদের প্রতি উদাসীন। তারা কোনও সহযোগিতা পায়নি। এক বিদেশি সংস্থা মেয়েদের খেলায় নিয়মিত উৎসাহ জুগিয়ে এসেছে।