স্কুলের উদ্যোগে পুরোহিতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই ছাত্রীর হাতে পুজো

153

জলপাইগুড়ি : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাগদেবীর আরাধনা করা হবে। তাহলে সেই আরাধনায় বাইরে থেকে পুরোহিত ডাকা হবে কেন? কেনই বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা করবে না? স্কুলের পড়ুয়াদের দিয়ে পুজো করানোর পরিকল্পনা গতবছর ডিসেম্বর মাস থেকে নেওয়ার পর আজ তা পূর্ণতা পেল। প্রায় দেড় ঘণ্টা সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ এবং আরতির মধ্যে দিয়ে পুজো শেষ করল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বছর পনেরোর দুই ছাত্রী। আর সেই পুজো উপভোগ করলেন একাধিক অভিভাবক, প্রাক্তনী, বর্তমান পড়ুয়া এবং আমন্ত্রিতরা। প্রথা ভেঙে ছাত্রীদের দিয়ে পুজো করিয়ে জলপাইগুড়ি রাষ্ট্রীয় উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বছর নজির গড়ল। উত্তরবঙ্গের মেয়েদের স্কুলের মধ্যে জলপাইগুড়ি শহরের এই বালিকা বিদ্যালয়ে এই ঘটনা প্রথম ঘটল। এই ঘটনাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে।

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা সাহা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাগদেবীর আরাধনা করা হবে। তাহলে সেই আরাধনা বাইরে থেকে পুরোহিত ডেকে কেন হবে। বিদ্যালয়ে ছাত্রীরা যদি পুজো করে তাহলে ক্ষতি কী? এই ভাবনা থেকেই স্কুলের সকলের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রীদের দিয়ে পুজো করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই কাজ খুব একটা সহজ ছিল না। সঠিকভাবে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ করতে হবে। সেইসঙ্গে পুজোর নিয়মনিষ্ঠা রয়েছে। এর জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় স্কুলের সংস্কৃতের শিক্ষিকা রেখা হালদারকে। প্রধান শিক্ষিকা বলেন, যেহেতু সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণিতে সংস্কৃত আছে,  তাই ছাত্রী নির্বাচন করতে খুব একটা বেগ পেতে  হয়নি। ডিসেম্বরে রেখাদেবী নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী প্রিয়াংশী রায় এবং কুহেলি সান্যালকে পুজো করার জন্য নির্বাচিত করেন। এরপর ওই দুই ছাত্রীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয় পুজো করার প্রশিক্ষণ। এর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সদস্য সাত্যকি মুন্সি।

- Advertisement -

সাত্যকিবাবু বলেন, সরস্বতীপুজোর কী মন্ত্র রয়েছে, তার উচ্চারণ, এছাড়া কী কী নিয়ম আছে, জানুয়ারি মাস ধরে সমস্ত কিছু শেখানো হয় এই দুই ছাত্রীকে। সকাল নটা থেকে শুরু করে টানা দেড় ঘণ্টা পুজো করে উচ্ছ্বসিত প্রিয়াংশী এবং কুহেলি। তাদের বক্তব্য, প্রথম দিকে একটু ভয় করলেও সমস্ত কিছু শিখে যাওয়ার পরে সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে অভিভাবকরাও উৎসাহ দিয়েছেন। কুহেলির মা  কাকলি সান্যাল বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সমর্থন করে আমরাও রাজি হয়ে যাই। এইরকম একটি উদ্যোগে পরিবারের সকলেই খুশি বলে জানান প্রিয়াংশীর মা রিতা রায়। পুজো চলাকালীন প্রিয়াংশীর বাবা সুদীপ রায়ও এসে মেয়ে পুজো দেখে যান। আগামী বছরও পড়ুয়াদের দিয়ে পুজো করানো হবে বলে জানান বিদ্যালয়ে শিক্ষিকারা।