একশো পার করে টিকা নিয়ে নজির দুই প্রবীণের

79

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার: এখনও নিয়মিত টিভি দেখেন তরুবালা দাস। সংবাদপত্রে চোখ বোলান দশরথ সরকার। দু’জনেই কানে কম শুনলেও দেশের বাড়ি অর্থাৎ বাংলাদেশের কথা শুনলে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। এখন থাকেন আলিপুরদুয়ারের সূর্য্যনগর  এলাকায়। দু’জনেই শতায়ু। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রবীন নাগরিকদের মধ্যে এই প্রথম শতায়ু দু’জন করোনার টিকা নিয়ে নজির তৈরি করলেন।

আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গীরিশচন্দ্র বেরা বলেন, ‘জেলার প্রবীনদের টিকা দেওয়া শুরুর পর শুক্রবারই প্রথম শতায়ু দুই বাসিন্দা টিকা নিয়েছেন। জেলায় এই দুই বাসিন্দা টিকা নেবার ক্ষেত্রে নজির তৈরি করলেন। ওঁনাদের দেখে অন্যরাও টিকা নিতে উৎসাহিত হবেন।’

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার আলিপুরদুয়ার শহরের সূর্য্য নগর সাব সেন্টার থেকে টিকা দেওয়া হয়। সেখানেই টিকা নেন ওই এলাকারি শতায়ু দুই বাসিন্দা।সূর্যনগর এলাকার বাসিন্দা তরুবালা দাসের একশো দুই বছর বয়স। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় তার জন্ম। তবে স্বাধীন বাংলাদেশ হবার আগেই তিনি এদেশে চলে আসেন স্বামীর সঙ্গে। এখন তার আত্মীয় স্বজনরা  আছেন ফরিদপুরে। তবে তরুবালা দেবীর পরিবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অবশেষে আলিপুরদুয়ারে স্থিত হন। ছেলে, মেয়ে বউমা, নাতি নাতনি নিতে এখন ভরা সংসার তরুবালা দেবীর। নিজের বাড়িতে এখনও নিয়ম করে টিভির পর্দায় চোখ রাখেন তিনি। তবে বাংলাদেশের কথা শুনলে কোথায় যেন হারিয়ে যান একশো দুই বছরের এই বাসিন্দা।

জানা গিয়েছে, প্রবীনা তরুবালাকে করোনার টিকা নেবার জন্য জোর করতে হয়নি। অন্যরোগের মতো করোনার জন্যও যে টিকা নিতে হবে তা বলাতেই তিনি রাজি হয়ে যান। শুক্রবার নিজের পাড়ার সাব সেন্টার থেকেই টিকা নিয়েছেন। টিকা নেবার পর তিনি বলেন, ‘টিকা নিয়ে ভালো আছি। এবার ভোটও দেব। তবে বাড়িতে নয়, বুথে গিয়েই অন্যবারের মতো ভোট দেব।

সূর্য্যনগর এলাকার আরেক প্রবীন বাসিন্দা দশরথ সরকার। তাঁর বর্তমান বয়স একশো এক বছর। এদিন তিনিও টিকা নিয়েছেন। দেশভাগের সময় তিনিও বাংলাদেশের ঢাকার বিক্রমপুর থেকে আলিপুরদুয়ারে চলে আসেন। তাই এখনও স্পষ্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি না দেখলেও ওই সময় তাঁর নাম শুনেছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর কাছে একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। বয়সের জন্য এখন আর তেমন কিছু মনে রাখতে পারেন না। তবে নিয়মিত সংবাদপত্রে চোখ রাখেন। বর্তমান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতির খোঁজও রাখেন।এদিন টিকা নেবার পর শতায়ু দশরথ সরকার বলেন, ‘আগে কখনও এমন রোগের কথা শুনিনি। তাই টিকা নিয়ে সবাই যাতে ভালো থাকেন সে কামনাই করি।’

শতায়ু দশরথবাবুর ছেলে দীলিপ সরকার বলেন, ‘বাবা টিকা নেবার পর ভালো আছেন। এমনকি এবার তিনি বুথে গিয়েই ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। হাটতে চলতে অসুবিধা হলেও আমরা বাবাকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে যাব।’

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসন টিকাগ্রহণকারি দুই শতায়ুকে নিয়ে উচ্ছসিত। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, শতায়ু দুই টিকাগ্রহণকারির ছবি দেখিয়ে প্রচার করা হবে। ওঁনাদের থেকে জেলার অন্য সাধারণ মানুষ যাতে টিকা নেন তাঁর সচেতনতা প্রচার করা হবে।