রাইস মিলের দেওয়াল ধসে মৃত ২, আহত ৪

202

বর্ধমান: রাইস মিলের গুদামে চালের বস্তা সরানোর সময়ে ধসে পড়া দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হল দুই শ্রমিকের। জখম হয়েছেন আরও চার শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার মণ্ডলগ্রামের একটি রাইস মিলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি জখমদেরকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার জন্য রাইস মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন বাদল দাস (৪৫) ও কিশোর হাজরা (৩৫)। মৃত দুই জনেরই বাড়ি মণ্ডলগ্রামে। বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জখম শ্রমিকরা হলেন, বিক্রম মণ্ডল, কৈলাশ দাস, জয়দেভ ও কুমকুম। এদের মধ্যে জয়দেবের বাড়ি কাটোয়ায়। বাকিরা মেমারির বামুনিয়া, মণ্ডলগ্রাম ও মন্তেশ্বরের বাসিন্দা। শুক্রবার বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে মৃতদের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। এই বিপর্যয়ের জন্য এদিন বিকালে জেলাপ্রশাসন মৃত ও জখমদের পরিবারের হাতে সরকারি ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, রাইসমিলের বিশাল গুদামে নানান রকম চাল রাখার জন্য আলাদা আলাদা পার্টিশন দেওয়াল রয়েছে। ইটের ১০ ইঞ্চি দেওয়াল অনেকটা উঁচু তুলে ওই পার্টিশনগুলি ছিল। পার্টিশন দেওয়াল ঘেরা গুদামের একটি ঘরে অনেক চালের বস্তা মজুত রাখা থাকে। ঘটনার সময়ে শ্রমিকরা গুদামে পার্টিশন দেওয়াল তোলা একটি ঘরে চাল বস্তাবন্দী করে লাটাচ্ছিল। ওই সময়ে আচমকাই ইটের পার্টিশন দেওয়াল ধসে পড়ে। তার নিচে চাপা পড়ে যায় ছয় শ্রমিক। খবর পেয়ে মেমারি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায়। স্থানীয়রা প্রথম উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। পরে জেসিবি এনে ভাঙা দেওয়াল সরিয়ে ছয় শ্রমিককে উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জন শ্রমিককে মৃত ঘোষনা করেন। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতদের পরিবার সদস্যরা জানান, রাইসমিল কর্তৃপক্ষ মৃত ও জখম শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। জেলার চালকল মালিক সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই মিল কর্তৃপক্ষ ওই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে।