হিন্দু মহিলার মৃতদেহ কাঁধে তুলে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকার করালেন দুই মুসলিম যুবক

897

বর্ধমান ২৫ ডিসেম্বরঃ ধর্ম যার যাই হোক সবথেকে বড়কথা মানুষ মানুষের জন্য। যীশুর জন্মদিনে সেই বাস্তবেরই স্বাক্ষী থাকলেন পূর্ব বর্ধমানের গলসির গলিগ্রামের বাসিন্দারা। আর্থিক সামর্থ না থাকায় এদিন এলাকার এক হিন্দু মহিলার মৃতদেহ সৎকারে নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছিল পরিবার। এই কথা কানে যেতেই ত্রাতা রুপে এগিয়ে আসেন গ্রামের দুই মুসলিম যুবক আজিজুর রহমান ও লালন সেখ। হিন্দু রীতি রেওয়াজকে মান্যতা দিয়ে তাঁরাই সরস্বতী দাসের মৃতদেহ নিজেদের কাঁধে তুলে শ্মশানে গেলেন। সৎকারের সমস্ত খরচ বহন করার পাশাপাশি এই দুই মুসলিম সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে সরস্বতীদেবীর মৃতদেহ দাহকার্য সম্পূর্ণ করালেন।
গলসির গলিগ্রামের  এক হতদরিদ্র পরিবারের বধূ ছিলেন সরস্বতীদেবী। কয়েক মাস আগে  মারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হন সরস্বতীদেবী। মৃতার আত্মীয় অরুপ দাস বলেন, তাঁর জেঠিমার এই দুরাবস্থার কথা  জানার পরে আন্তরিক ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রামের মুসলিম যুবক আজিজুর, লালন শেখ। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে নিজেদের  সাধ্যমতো অসুস্থ সরস্বতীদেবীর জন্য খাবার, পোশাক ও ওষুধ যুগিয়ে গিয়েছিলেন। এদিন সরস্বতীদেবীর মৃত্যুর পর আজিজুর ও লালন শেখ সৎকার কাজেও একই ভাবে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। মৃতার স্বামী ভৈরব বাবু এদিন বলেন, আজিজুর ও লালন পাশে না দাঁড়ালে স্ত্রীর মৃতদেহ সৎকার করতে পারতাম না। ওরা দুজনে সত্যি দেবতুল্য মানুষ। অন্যদিকে আজিজুর এবং লালনের বক্তব্য মানুষ হিসেবে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ মনে করেই এই কাজ করেছেন।

 

- Advertisement -