শারীরিক নিগ্রহের শিকার দুই নার্স, বিক্ষোভ থানায়

86

বীরপাড়া: শারীরিক নিগ্রহের শিকার দুই নার্স। রবিবার ভোরে ঘটনায়ি ঘটে আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মৃতের আত্মীয়-পরিজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ, সেসময় কর্তব্যরত দুই নার্সকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন মৃতের আত্মীয়-পরিজনরা। ঘটনার পর বীরপাড়া থানার সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান চিকিৎসক, নার্স সহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীরা। অন্যদিকে, এই ঘটনায় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার অভিজিৎ বীরপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত শনিবার সহকারী সুপারও নিগ্রহের শিকার হন। বীরপাড়া থানার ওসি বিরাজ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’

বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে এদিন ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ মৃত্যু হয় জটেশ্বর এলাকার বাসিন্দা কাজল সরকারের(৪৫)। জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ থাকায় তাঁকে শনিবার ওই হাসপাতালে ভরতি করানো হয়েছিল। মৃতের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির জন্যই মারা যান কাজলবাবু। এরপরই তাদের যাবতীয় রোষ গিয়ে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর। এদিকে,  হাসপাতালের সহকারী সুপার বিপুল বোস বলেন, ‘ওই রোগীকে একেবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁকে আইসিইউতে রাখা দরকার ছিল। কিন্তু বীরপাড়া হাসপাতালে আইসিইউ নেই। তাই তাঁকে স্থানান্তরিত করা জরুরি হয়ে পড়ে। তবে, প্রটোকল মেনে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য ভরতি করানো হয়। যদিও তাঁর সাথে থাকা মহিলাটিকে বারবার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য বাড়ির লোকজনকে ডেকে আনতে বলা হয়। বাড়ির লোকজন পৌঁছোয় ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। তার আগেই মারা যান রোগী।’

- Advertisement -

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, প্রায়ই তাদের নিগ্রহের শিকার হতে হয়। তবে, নানা কারণে এধরনের বেশিরভাগ ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। বিপুলবাবু বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের অনেক সময় দ্বিগুণ সময় ডিউটি করতে হচ্ছে। কিন্তু তার ওপর মাঝে মাঝেই নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে। নিরাপত্তার এত অভাব নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।’