তৃণমূলের ‘সৌজন্য’ ফোন চাঞ্চল্যকর দাবি রাহুলের

0
836
- Advertisement -

নিউজ ডেস্ক: ফের বিস্ফোরক বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শীর্ষ স্থানীয় নেতা যোগাযোগ করেছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসলেন ভারতীয় জনতা পার্টির এই নেতা। যদিও তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, রাহুল বলেন, ‘যখন কিছু বলার হবে, তখন ঠিক সময় মতো আপনাদের জানাব।’‌

সম্প্রতি বিজেপি’‌র নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন তৃণমূলের দুই প্রাক্তন নেতা মুকুল রায় এবং অনুপম হাজরা। আর তাতেই প্রাক্তন হয়ে যাওয়া জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহার ক্ষোভ তৈরি হয়। তৃণমূল তথা অন্যান্য দল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের উত্থান এবং রাহুল সিনহার পতন। এই নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এমনকী প্রকাশ্যেও বিদ্রোহ দেখিয়েছিলেন। তার জেরে ভয়ঙ্কর শোরগোল পরে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতির অন্দরেও। কিন্তু গেরুয়া শিবির সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে তাতে আমল দেয়নি।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বিজেপি’‌র কেন্দ্রীয় সম্পাদকের পদ থেকে। ওই দিনই রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্যের ভিডিও পোস্ট করেন টুইটারে। তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। এবার বিতর্ক উসকে দিলেন পোড়খাওয়া বিজেপি নেতা। এরপর রাহুল সিনহা তাঁর মাইক্রো ব্লগিং সাইটে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেছিলেন, ‘চল্লিশ বছর বিজেপি‌র সেবা এবং বিজেপি’‌র একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করে এসেছি। জন্মলগ্ন থেকে বিজেপি‌র সেবা করার পুরস্কার এটাই। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আসছে, তাই আমাকে সরতে হবে। এর থেকে বড় দুর্ভাগ্যের আর কিছু হতে পারে না।‘ পাশাপাশি, নতুন কমিটি ঘোষণার পর রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে রাহুল বলেছিলেন, ‘আমি যা বলার ১০–১২ দিনের মধ্যে বলব এবং আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করব।‘

তবে সেই গর্জনের এখন প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেল। তিনি ভবিষ্যৎ জানাতে পারেননি এখনও। এরপরই সুর নামিয়ে এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘আমার অবস্থান যা ছিল তাই রয়েছে। এতদিন তো দলের হয়ে কাজ করলাম। এখন একটু বিশ্রাম নিচ্ছি। কুড়ি দিন হয়েছে সবে। আরও কয়েকদিন হবে। তবে ফোন করেছিলেন তৃণমূলের দুই সম্মানীয় নেতা। পৃথক পৃথক ভাবে দু’জন ফোন করেছিলেন। তাঁরা জানতে চাইছিলেন, আমি কী চিন্তা করছি। আগামী দিনে কী পরিকল্পনা রয়েছে, ইত্যাদি। এটুকুই আর কী! সৌজন্য ফোন যেমন হয় সেটাই।’‌

তবে বলা বাহুল্য, রাহুল সিনহা সামনে বিধানসভা নির্বাচনে নিজের দর হাঁকাতেই এই তৃণমূল যোগের কথা উসকে দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

- Advertisement -