জানলা খুলে গন্ডারের লড়াই দেখলেন কাশিয়াবাড়ির বাসিন্দারা

109

ময়নাগুড়ি : গভীর রাতে জানলা খুলে কাশিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা চমকে উঠলেন। ঘরের পাশেই চলছে দুই গন্ডারের লড়াই। দরজার খিল এঁটে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না তাঁদের। যতক্ষণ না বনকর্মীরা এসে পটকা ফাটালেন, বাইরে চলল ধুন্ধুমার কাণ্ড। পরে দেখা গেল, ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত। একদিকে মানুষ যখন প্রেমের সপ্তাহ পালন করছে, তখনই সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ের নামল দুই গন্ডার। গরুমারার জঙ্গল ছেড়ে লোকালয় হয়ে উঠল লড়াইয়ের ময়দান। ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাইয়ে কাশিয়াবাড়ির এই ঘটনায় একটি গন্ডার জখম হয়েছে। তবে কুনকি হাতি দিয়ে তল্লাশি চালানোর পরেও বন দপ্তর তাকে খুঁজে পায়নি। শুক্রবার সূর্য ডোবার পরেই গরুমারার জঙ্গল থেকে দুটি পুরুষ গন্ডার জলঢাকার চর সংলগ্ন ঘাসবনে চলে আসে। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চলে। লড়াইয়ে একটি গন্ডার আহত হয়। প্রতিপক্ষের তাড়া খেয়ে সেটি কাশিয়াবাড়িতে আশ্রয় নিলেও রেহাই মেলেনি। সেখানেও ধাওয়া করে প্রতিপক্ষ। ফের শুরু হয় লড়াই। আওয়াজ শুনে জানলা খুলে আঁতকে ওঠেন এলাকাবাসী।

প্রবীণ বাসিন্দা ভবানী রায় বলেন, আচমকা প্রচণ্ড দাপাদাপির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি, দুই বাড়ির মাঝে চলছে দুই গন্ডারের লড়াই। আরেক প্রবীণ বাসিন্দা হরেন রায় বলেন, শোয়ার ঘরের একেবারে গা ঘেঁষে দুই গন্ডারের লড়াই চলছিল। একটি গন্ডার আরেকটিকে অনবরত মেরে যাচ্ছিল। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই লড়াই চলে। আহত গন্ডারটির শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। অলোকা রায় বলেন, এই ধরনের ঘটনা এলাকায় প্রথম।  উঠোনের গা ঘেঁষে এভাবে দুই গন্ডারের লড়াইয়ে  ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সকলে। কোনও রকমে সন্তানদের নিয়ে দরজা আটকে ঘরের ভিতরে ছিলাম।  খবর পেয়ে আসেন রামশাই মোবাইল স্কোয়াডের বনকর্মীরা। পটকার আওয়াজে গন্ডার দুটি এলাকা ত্যাগ করে। একটি গন্ডার জলঢাকার বাঁধ পেরিয়ে সোশ্যাল ফরেস্টে প্রবেশ করে, আরেকটি বাঁধ বরাবর কিছুদূর গিয়ে রামশাই রাইনো ক্যাম্প ঘাসবনে আশ্রয় নেয়। শনিবার সকাল থেকেই গরুমারার মেদলা ক্যাম্পের দুই কুনকি হাতি ফুলমতি ও বর্ষণকে নিয়ে চলে দুই গন্ডারের খোজ। দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পর একটি গন্ডারকে জলঢাকার চরে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তবে জখম গন্ডারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে ঘটনা প্রথম নয়।  এর আগে বহুবার এই সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছে গরুমারার বেশ কয়েকটি পুরুষ গন্ডার।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের সাউথ রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত  আধিকারিক  সুদীপ দে বলেন, গন্ডারের খোঁজে  শনিবার সকাল থেকেই দিনভর নজরদারি চালানো হয়,  কুনকি হাতিও কাজে লাগানো হয়েছিল।  আগামীকাল ফের সেটির খোঁজ চালানো হবে।

- Advertisement -