ছিট বড় লাউকুঠি গ্রামকে গিলছে দুটি নদী

বক্সিরহাট : নদীভাঙনে বিপর্যস্ত ছিট বড় লাউকুঠি গ্রামের মানুষ। তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা ছিট বড় লাউকুঠি গ্রাম রায়ডাক ও সংকোশ নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। গ্রামের তিনদিক নদীবেষ্টিত। একদিক অসমের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছর বর্ষায় দুটি নদীর ভাঙনের ফলে গ্রামের প্রায় তিনভাগের দুইভাগ চলে গিয়েছে নদীগর্ভে। গ্রামবাসীরা সেখানে স্থায়ী পাড়বাঁধ তৈরির দাবি জানালেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি।

এই বছরও বর্ষার আগে সেচ দপ্তর সেখানে স্থায়ী বাঁধ তৈরির আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবাযিত হয়নি। ফলে নদীতে জল বাড়তেই ভাঙন তীব্র আকার নিয়েছে। গত কয়েকদিনে গ্রামের তিনটি পরিবারের বাড়িঘর তলিয়ে গিয়েছে নদীগর্ভে। আরও দশটি বাড়ি ভাঙনের মুখে। দু-তিনদিনের মধ্যে সেগুলিও চলে যাবে নদীতে। করোনার বিপদ ভুলে গ্রামবাসী উঠেপড়ে লেগেছেন গ্রাম বাঁচাতে। স্থানীয়ভাবে বাঁশ ফেলে চেষ্টা চালাচ্ছেন ভাঙন রুখতে। কিন্তু সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এটা অসম্ভব। এমনিতেই কোনও কাজ নেই। করোনার জন্য অসমে যাওয়ার রাস্তা সিল করে দেওয়া হয়েছে। রুটিরুজির টানে নদী পেরিয়ে তাই কাজের খোঁজে ব্লকের অন্য এলাকায় যেতে হয় মানুষকে। সেই কারণে ওই গ্রামে পরিয়ায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। করোনার ভয়ে কাজ ছেড়ে গ্রামে ফিরেছেন তাঁরা। কোনওভাবে অতিকষ্টে দিনয়াপন করছেন গ্রামের মানুষ। তার উপর এই ভাঙন যেন তাঁদের মাথায় বাজ পড়ার মতো। গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চা রায় ও কৃষ্ণলাল রায় জানান, দেশজুড়ে লকডাউনে কাজ হারিয়ে তাঁরা বাড়িতে ফিরে এসেছেন। কিন্তু নদীর ভাঙনে তাঁদের ঘরবাড়ি চলে যাওয়ায় তাঁরা আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন। ভাঙন রোধে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

গ্রামের নদীভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক ক্ষীরোদ রায় জানান, বিষয়টি তাঁরা ছবি সহ লিখিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মহকুমা সেচ দপ্তরের আধিকারিক বিশ্বদীপ দেবকে জানান। বিশ্বদীপবাবু জানিয়েছেন, অরক্ষিত এলাকায় তাঁদের কিছু করার নেই। তিনি বিষয়টি বিডিওকে জানাতে বলেন। পরে বিষয়টি তাঁরা তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিকেও জানান। এ ব্যাপারে বিডিও জানান, ইতিমধ্যেই তিনি তাঁর দপ্তরের নির্মাণ সহায়ককে সেখানে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ঘুরে এসে জানিয়েছেন, অস্থায়ীভাবে সেখানে ভাঙন প্রতিরোধ প্রায় অসম্ভব। তবুও তিনি চেষ্টা করবেন ১০০ দিনের প্রকল্পের যদি কিছু করা যায়। তবে স্থায়ীভাবে সেখানে পাড় নির্মাণ করতে না পারলে ভাঙন ঠেকানো যাবে না। সেজন্য তিনি সেচ দপ্তরকেও চিঠি লিখেছেন। একই সঙ্গে ভানুকুমারী-১ গ্রাম পঞ্চায়েতকেও ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ পাঠিয়েছেন।