মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর নকশালবাড়ি বাজার এলাকায় দুটি রাস্তা নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তৈরির এক মাস কাটতে না কাটতেই ভাঙতে শুরু করেছে রাস্তা দুটি। রাস্তা দুটির বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গাতেই পাথর বেরিযে গিয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকের আবার অভিযোগ, রাস্তা তৈরির বরাদ্দ টাকা কাটমানি হিসাবে নেতারা নিয়ে নেওয়ায় রাস্তার এই দশা। যে এলাকায় রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে, সেই দক্ষিণ বাজার এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যা তৃণমূল কংগ্রেসের অনিতা পাল বলেন, বাজারের রাস্তা সংস্কারের বিষয়টি আমার জানা নেই। দ্রুত রাস্তা দুটি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের দাবি, বৃষ্টির জন্য রাস্তা সংস্কার ঠিক করে করা যায়নি। ঠিকাদার সংস্থাকে রাস্তা ফের সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে।

নকশালবাড়ি বাজারের ঘাটানি মোড় থেকে দুর্গামন্দির এবং ডিএনটি মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ডিআই ফান্ডের রাস্তাগুলি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত। এই রাস্তার ধারেই রয়েছে নকশালবাড়ির মাছবাজার, ডিআই ফান্ড মার্কেট, শেডঘর, ব্যাংক সহ যাবতীয় দোকান। নকশালবাড়ি বাজার এলাকার রাস্তাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে গোটা বাজারের রাস্তায় কাদা জমে যায়। এর ফলে যাতায়াত করতে বাসিন্দা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলকেই সমস্যায় পড়তে হয়। গত বছর নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত বোর্ড তৃণমূল কংগ্রেস দখল করার পর নকশালবাড়ি বাজার এলাকার দুটি রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বরাদ্দ টাকায় রাস্তার কাজ শুরু হয়। জুন মাসের শেষে রাস্তার কাজ শেষ হয়। কিন্তু এক মাস কাটার আগেই রাস্তাগুলি ভাঙতে শুরু করেছে। গাড়ি গেলে পাথর বেরিয়ে চারদিকে ছড়িযে পড়ছে। বৃষ্টিতে গর্ত তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মিঠুন দাস, রতন দাস, ঝরনা বিশ্বাস, বাসুদেব ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন পর বাজারের রাস্তা সংস্কার করা হল। কিন্তু কাজের মান এতটাই খারাপ যে একমাস কাটার আগেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। তবে রাস্তা ভাঙার জন্য ব্যবসাযীদের ত্রিপল টাঙানোকেও দায়ী করেছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা নকশালবাড়ি ব্লক কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাবু দাস বলেন, ব্যবসায়ীরা রাস্তার ওপর ত্রিপল টাঙানোয়, সেখানে জমা জল রাস্তায় পড়ে। প্রতিদিন জল পড়ায় রাস্তায় গর্ত দেখা দিয়েছে। একই কথা বলেছেন নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধর। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছেন। রাস্তা দখল করে পসরা সাজানোর জন্য ত্রিপল টাঙানো হচ্ছে। এর ফলে জমা জল পড়ে রাস্তা ভাঙার পাশাপাশি আগুন লাগার আশঙ্কাও বাড়ছে। যদিও ত্রিপলের জন্য রাস্তা ভাঙার অভিযোগ মানতে চাননি নকশালবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অনিল সাহা। তিনি বলেন, বাজারে ত্রিপলের ব্যবহার চিরকাল ছিল, চিরকালই থাকবে। রাস্তার কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়াতেই গর্ত তৈরি হয়েছে। নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ইঞ্জিনিয়ার কেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিল পাস করে দিলেন? এই বিষয়ে আমি প্রধানকে অভিযোগ জানিয়েছি। নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অরুণ ঘোষ বলেন, রাস্তায় পিচ দেওয়ার সময় প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় কাজটি ভালো করে করা যায়নি। তবে আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ফের গর্তগুলি মেরামতের জন্য বলেছি। শীঘ্রই সেখানে আবার কাজ করা হবে। এর জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা কেটে রাখা হয়েছে।