দিনে জ্বলছে পথবাতি, সন্ধে হলেই অন্ধকার

188

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : দিনেরবেলা পথবাতি জ্বলে থাকলেও রাতে শহরের বেশ কিছু রাস্তা অন্ধকারে ডুবে থাকছে। এই ধরনের ঘটনা অবশ্য কোচবিহার শহরে নতুন বিষয় নয়। গত কয়েকদিন ধরে তা শহরবাসীর চোখে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, দিনে শহরের বেশ কিছু জায়গায় পথবাতি এমনকি হাইমাস্টও জ্বলছে। অপরদিকে, শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অজ্ঞাত কারণে সন্ধ্যার পর আলো জ্বলছে না। ফলে অনেক এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই বলে শহরবাসীর একাংশ জানিয়েছেন।

শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন রাস্তার ধারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে পথবাতি বসানো হয়েছিল। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি রোড, ম্যাগাজিন রোড সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অনেকদিন ধরে বাতি বিকল হয়ে রয়েছে। এতে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পথচলতি সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে ওই এলাকার পথবাতিগুলি বিকল হয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ করছে না। অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য পথবাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বিকল পথবাতিগুলি দ্রুত সারাইয়ের ব্যবস্থা করা উচিত।

শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পথবাতিগুলি দীর্ঘদিন বিকল হয়ে থাকায় অন্ধকার রাস্তায় সমাজবিরোধীদের আনাগোনা বাড়ছে। আবার ওই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করায় একদিকে যেমন পথ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, অপরদিকে ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। শিলিগুড়ি রোড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা দিলীপকুমার মজুমদার বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার গাড়ি যাতায়াত করে। ব্যস্তত এই রাস্তার ধারের বাতিগুলি দীর্ঘদিন বিকল হয়ে থাকলেও প্রশাসনের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। দুর্ঘটনা এড়াতে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ম্যাগাজিন রোড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা পার্থ নিয়োগীও একই কথা জানিয়েছেন।

অপরদিকে, শহরের সিলভার জুবিলি রোড, সুনীতি রোড সহ কয়েকটি জায়গায় ভরদুপুরে পথবাতি জ্বলে থাকছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এলইডি বাতি লাগিয়ে শহরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সারাদিন এভাবে বাতি জ্বলায় বিদ্যুতের অপচয় আটকানো যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। সুনীতি রোড সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়া গণেশ কেওট বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেখছি সুনীতি রোডের ধারের বাতিগুলি দিনেরবেলা জ্বলে থাকছে। শহরের রাস্তায় জ্বলে থাকা বাতিগুলির খরচ আমাদেরই দিতে হয়। দিনেরবেলায সেগুলি জ্বলে থাকায় বিদ্যুতের অপচয় তো হচ্ছেই, সেইসঙ্গে খরচের পরিমাণও বাড়ছে। এ বিষয়ে পুর কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবই দায়ী। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ করা উচিত।

এবিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র শরদেন্দু রায় বলেন, শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য মাটির নীচ দিয়ে কেবল নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। তাই বেশ কিছু জায়গার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। দিনেরবেলা পথবাতি জ্বলে থাকার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, বেশ কিছু জায়গায় পথবাতিগুলি পল্টানো হচ্ছে। এছাড়া নতুন খুঁটি বসানোর কাজ চলছে। কানেকশন পরীক্ষা করার জন্য বাতিগুলি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে।