প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : দিনহাটা পুরসভায় বামফ্রন্টের বোর্ড থাকাকালীন শহরের ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কমিউনিটি হল তৈরির প্রকল্প নিয়েছিল। ২০১৭ সালে তা তৈরি হয়ে গেলেও এগ্রিমেন্টের মারপ্যাঁচে তিনটির মধ্যে দুটি কমিউনিটি হল এখনও উদ্বোধন হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই পূর্বতন ও বর্তমান শাসকদল বিষয়টি নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করছে।

২০১৩ সালের ওই প্রোজেক্ট অনুসারে, ওয়ার্ডের মানুষ যাতে বিবাহ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আযোজনে অসুবিধায় না পড়ে, তার জন্যই এই সমস্ত কমিউনিটি হল তৈরি করা হয়েছিল। আর সেই উদ্দেশ্যেই তৎকালীন বামফ্রন্টের পুরপ্রধান চন্দন ঘোষ যে সমস্ত ওয়ার্ডে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের বসবাস ছিল, সেখানে কমিউনিটি হল তৈরি করিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি পুরসভার নিজস্ব জায়গায় তৈরি করা হয়। কিন্তু বাকি দুটি শহরের পৃথক দুটি ক্লাবের জমিতে তৈরি করা হয়েছিল। প্রাক্তন চেয়ারম্যান চন্দন ঘোষ বলেন, সেসময় বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, ভবন তৈরির পর ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তা তুলে দেওয়া হবে। তারা তা পরিচালনা করবে। তবে পুরসভা যদি কখনও কোনও অনুষ্ঠানে ভবনটি ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তারা তা করতে পারবে। এই শর্তেই তাঁরা জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই ২০১৫ সালে উদয়ন গুহর হাত ধরে দিনহাটা পুরসভা দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। পুরপ্রধান হন উদয়ন গুহ। এরপর তিনি আগের চেয়ারম্যানের চুক্তিকে মানতে চাননি। এ বিষয়ে উদয়ন গুহ বলেন, পূর্বতন চেয়ারম্যানের করা চুক্তিতে কিছু ভুল রয়েছে। সেগুলি ঠিক করে শীঘ্রই কমিউনিটি হল চালু করা হবে।

তবে কমিউনিটি হল তৈরি হয়ে পড়ে থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি, ওই সমস্ত কমিউনিটি হলে নেশার আসরও বসছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ তুলছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লাব কর্তা বলেন, তৎকালীন চেয়ারম্যান একরকম চুক্তির কথা বলেছিলেন। এখনকার চেয়ারম্যান আরেকরকম কথা বলছেন। যে কারণে এখনও ভবনগুলির দাযিত্ব আমরা পাইনি। ফলে ওই সমস্ত ভবনে এলাকার কোনও অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বর্তমান সময়ে শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দাই বিয়ের মতো অনুষ্ঠানের জন্য  ভবনকেই বেশি পছন্দ করেন। তার একটি কারণ, বাড়ির জায়গা কম থাকার পাশাপাশি প্যান্ডেল করতে গিয়ে অনেকটাই খরচ পড়ে। তার চাইতে ভবন ভাড়া করলে কম খরচ পড়ে। তাই স্বাভাবিকভাবেই শহরের বাসিন্দাদের কাছে অনুষ্ঠান করার জন্য ভবনই প্রথম পছন্দ।

দিনহাটার বাসিন্দা বাপি দে বলেন, দিনহাটা শহরের গোসানি রোড এলাকায় পর্যাপ্ত ভবনের অভাব। তার ফলে অনেকেই দূরদূরান্তে থাকা ভবন বিয়ে মতো অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে এই কমিউনিটি হল দুটি যদি উদ্বোধন হত তবে দূরত্ব অনেকটাই কমে যেত। পাশাপাশি, খরচও অনেকটা বাজেটের মধ্যে চলে আসত। তাই বন্ধ হয়ে থাকা কমিউনিটি হল দুটি যদি পুরসভা দ্রুত চালু করে, তবে সবারই সুবিধা হবে।