পাকা ঘর ও শৌচাগার এখনও মেলেনি সাবেক ছিটের দুই গ্রামে

125

পার্থসারথি রায় , দিনহাটা : ছিটমহল বিনিময়ে সময় অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন সাবেক ছিটের বাসিন্দারা। তবে দিনহাটা মহকুমার দিনহাটা-১ ব্লকের বাত্রিগাছ ফ্র‌্যাগমেন্ট ও কিশামত বাত্রিগাছের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের সব স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। প্রশাসনের তরফে পাকা রাস্তা, স্কুল, বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর বক্তব্য, অনেকেই আজও পাকা বাড়ি, শৌচালয়, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা পাননি। রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনের আগে তাঁদের দাবিপূরণের আশ্বাস দিলেও কোনও কাজ হয় না বলে তাঁদের অভিযোগ।

২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় হয়। তখন ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয় বাত্রিগাছ ফ্র‌্যাগমেন্ট ও কিশামত বাত্রিগাছ। বর্তমানে দিনহাটা মহকুমার দিনহাটা-১ ব্লকের বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০৩, ২০৯ ও ২১০ নম্বর বুথে রয়েছে এই সাবেক ছিট দুটি। বাত্রিগাছ ফ্র‌্যাগমেন্টে মোট ভোটার সংখ্যা ৯৯২, বাড়ি রয়েছে ২৩৯টি। কিশামত বাত্রিগাছে মোট ভোটার ৯৭৯, বাড়ির সংখ্যা ১২৭। ছিটমহল বিনিময়ের সাড়ে পাঁচ বছর পার হয়েছে। কিন্তু আজও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

- Advertisement -

বাত্রিগাছ ফ্র‌্যাগমেন্টের ২১৮ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা নবিউল্লা মিয়াঁ বলেন, এই সাড়ে পাঁচ বছরে আমি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বলতে রেশন ছাড়া আর কিছু পাইনি। এলাকায় কয়েকটি সৌরচালিত পাম্পসেট বসানো হলেও কৃষিকাজে জলসেচের সুবিধা ভোগ করছেন মাত্র কয়েকজন বাসিন্দা। ১৯৮ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা ছালিমা বেওয়া বলেন, আমি অনেক আবেদন করেও শৌচাগার, ঘর, গোরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, ভাতা পাইনি। ৩৯ ও ১৭১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দারাও একই অভিযোগ করেন। কিশামত বাত্রিগাছের ১১১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা গোপালচন্দ্র বর্মন বলেন, আমি সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করেও কোনও সুবিধা পাইনি। ১১০ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা শৈলেন্দ্রচন্দ্র বর্মন বলেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে শুধু সরকারি প্রকল্পের গল্পই শুনলাম। কিন্তু রেশন ছাড়া আর কিছুই পেলাম না।

সাবেক ছিটের বাসিন্দাদের বঞ্চনার বিষয়ে এর আগে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিল বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ। সংগঠনের সম্পাদক কিরীটী রায় বলেন, অন্য সাবেক ছিটের মতো বাত্রিগাছ সাবেক ছিটেও বাসিন্দারা বঞ্চনার শিকার। তাঁদের ন্যায্য মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়ে আজ পর্যন্ত কোনও কাজ হয়নি। বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিউটি বর্মন রায় বলেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যখন যেমন আসে, তা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু তার বাইরে আমার কিছু করার নেই। দিনহাটার মহকুমা শাসক হিমাদ্রি সরকার বলেন, ওই সাবেক ছিটের বাসিন্দাদের তরফে সরকারি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা না পাওয়ার কোনও অভিযোগ মহকুমা প্রশাসনের দপ্তরে জমা পড়েনি। কোচবিহার নির্মল জেলা হিসেবে স্বীকৃত। কাজেই ওই এলাকায় অনেক বাড়িতে শৌচাগার না থাকার কথা নয়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সেখানে সমানভাবেই পৌঁছাচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিশ্চয়ই ব্লক কিংবা মহকুমা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হবে।