হালচাষ করেও তিরন্দাজিতে জাতীয় স্তরে পা দুই যুবকের

173

কোচবিহার: বড়ো কোনও প্রতিযোগিতা সামনে এলেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে থাকে কোচবিহারের মৃত্যুঞ্জয় রায়, বিপ্লব সিংহকার্জির। ভালো পারফরমেন্সের জন্য প্রয়োজন নামি তীর-ধনুকের। কিন্তু সেগুলি পাবে কোথায়? অর্থাভাবে সেগুলির জন্য ভরসা করতে হয় বন্ধুদের উপরই। রোজগারের জন্য মাঝেমধ্যেই জমিতে নেমে কৃষিকাজে হাত লাগায় মৃত্যুঞ্জয়রা। কৃষিজমি থেকে জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগের দূরত্ব অনেকটাই। সেই দূরত্ব আর প্রতিকুলতা পেরিয়ে আজ জাতীয় স্তরে খেলার জন্য বাংলা দলে জায়গা করে নিল জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ভাটলাগুড়ির দুই কিশোর মৃত্যুঞ্জয় ও বিপ্লব। ১ সেপ্টেম্বর থেকে জামশেদপুরের টাটানগরে শুরু হচ্ছে জাতীয় আর্চারি প্রতিযোগিতা। সেখানেই বাংলা দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে তাঁরা। তাদের এই সুযোগ মেলার খবরে উচ্ছ্বসিত জেলার ক্রীড়ামহল।

কোচবিহার-২ ব্লকের আমবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভাটলাগুড়ির বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয়। বাবা মলিন রায় পেশায় কৃষক। দিন আনা, দিন খাওয়া এই পরিবারে তাদের কাছে তিরন্দাজি শেখা যেন অনেকটা বিলাসিতা। তবে অর্থাভাব থাকলেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০১৬ সাল থেকে স্থানীয় এক কোচ মন্টু মুন্ডার কাছ থেকে তিরন্দাজির প্রশিক্ষণ নেয় মৃত্যুঞ্জয়। পরিকাঠামোর অভাব থাকায় কখনও রাস্তায় আবার কখনও ধানখেতে অনুশীলন করেছে। পরিবারে অর্থাভাব থাকায় কৃষিকাজও করতে হয় তাকে। সেখান থেকেই সুযোগ মেলে তিরন্দাজের বাংলা দল গঠনের ট্রায়ালে। সেই ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৃত্যুঞ্জয় ইন্ডিয়ান রাউন্ডে বাংলা দলের হয়ে খেলার সুযোগ পায়। মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ‘তিরন্দাজি শেখার জন্য যা যা সরঞ্জাম প্রয়োজন তা আমার নেই। ফলে ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনা। বাংলা দলের হয়ে খেলার যে সুযোগ পেয়েছি তা ভালোভাবে কাজে লাগাব।’

- Advertisement -

একই এলাকার কিশোর বিপ্লব সিংহকার্জি। সেও মন্টুবাবুর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিত। বর্তমানে অবশ্য সাইয়ে হারিজ কুমারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়। মৃত্যুঞ্জয়ের মতো বিপ্লবেরও আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বাবা নরেন সিংহকার্জি রাজস্থানে শ্রমিকের কাজ করেন। মামার বাড়িতে থেকে তাদের সহযোগিতাতেই পড়াশোনা করেছে বিপ্লব। সেও মাঝেমধ্যে কৃষিকাজ করে। বিপ্লব কমপাউন্ড রাউন্ডে বাংলা দলের হয়ে খেলবে। এই রাউন্ডে খেলার জন্য নামি যন্ত্রপাতির প্রযোজন। সেগুলি তার কাছে নেই বলেই আক্ষেপ করেছে সে। বর্তমানে বোলপুরো সাইয়ে ক্যাম্পাসে রয়েছে বিপ্লব। সে জানান, কোচ বলেছেন যত দ্রুত সম্ভব কিছু যন্ত্রপাতি কিনতে হবে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় পাব বুঝতে পারছি না। বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে কাজ চালাচ্ছি। এর আগেও বেশকিছু প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু যন্ত্রপাতির অভাবে প্রশিক্ষণের অভাব থাকায় ভালো ফল করতে পারিনি।

কোচ মন্টু মুন্ডা বলেন, ‘তিরন্দাজি ঠিকমতো শেখার জন্য যা যা ইকুইপমেন্ট প্রযোজন তা ওদের নেই। তার মাঝেও কষ্ট করে শিখছে। এতদিনের পরিশ্রম সফল হচ্ছে। আশা করি জাতীয়স্তরে ওরা ভালো পারফরমেন্স করবে। জেলা তিরন্দাজ সংস্থার সচিব সুব্রত দত্ত বলেন, ‘জেলা থেকে দু’জন বাংলা দলে সুযোগ পেয়েছে। এটি খুব আনন্দের বিষয়। আমরা তাদের পাশে আছি।’