বর্ণবিদ্বেষ ঘিরে স্বরাষ্ট্রসচিবকে তোপ মিঙ্গসের

লন্ডন : ইউরো কাপের ফাইনাল পরবর্তী বর্ণবিদ্বেষকে ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ইংল্যান্ডে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ন্যক্কারজনকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে ফাইনালে ব্যর্থ তিন কৃষ্ণাঙ্গ ইংরেজ তারকা মার্কাস র‌্যাশফোর্ড, জ্যাডন স্যাঞ্চো ও বুকায়ো সাকাকে। পাল্টা প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন ফুটবলার থেকে সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষ। তবে একমাঝেই বর্ণবিদ্বেষ বিতর্কে লেগেছে রাজনীতির রং। বিতর্কে আগুন দেওয়ার জন্য দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব প্রীতি প্যাটেলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার টাইরন মিঙ্গস।

- Advertisement -

এর আগে ইউরো কাপে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ইস্যুতে ইংরেজ ফুটবলাররা হাঁটু মুড়ে প্রতিবাদ জানালেও তা ভালো চোখে নেয়নি থ্রি লায়ন্স সমর্থকরা। গ্যালারি থেকে বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছিল গ্যারেথ সাউথগেটের দলকে। সমর্থকদের সেই আচরণের বিরুদ্ধে নীরবই ছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব প্রীতি প্যাটেল এই ব্যাপারে বলেছিলেন, হাঁটু মুড়ে প্রতিবাদ রাজনৈতিক আচরণ। ফাইনালে হারের পর ইংরেজ সমর্থকদের লাগামছাড়া তাণ্ডব নিয়ে মুখ খুললেও সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পাননি প্রীতি প্যাটেল। তাঁর মন্তব্য যে বর্ণবিদ্বেষ বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে, স্পষ্টভাষায় জানিয়েছে মিঙ্গস। স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষপাতিত্বমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে ইংরেজ ডিফেন্ডার বলেছেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা যখন বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম তখন আপনি (স্বরাষ্ট্রসচিব প্রীতি প্যাটেলকে উদ্দেশ করে) তাকে রাজনৈচিক আচরণ বলে দাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতেও এই ব্যাপারে যখনই প্রতিবাদের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আপনি অনীহা দেখিয়েছেন।

মিঙ্গসের অভিযোগকে সমর্থন জানিয়েছেন রাজনীতিবিদ তথা ব্রিটেনের প্রাক্তনমন্ত্রী জনি মার্সার। টুইটবার্তায় তিনি বলেন, মিঙ্গস যেটা বলেছে সেটা বেদনাদায়ক হলেও সত্যি। বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনসারভেটিভ পার্টির এই সদস্য আরও বলেন, আমর অযথা এই পরিস্থিতিকে অস্বস্তিদায়ক করে তুলছি। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করা দরকার নাকি চুপ করে থাকা উচিত? নিজেদের আদর্শের পথ ভুলে গেলে চলবে না। সমালোচনায় সরব হয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার গ্যারি নেভিলও। স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, গ্যালারি থেকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য কিংবা বিদ্রুপকে শুরুতে আমল দেননি প্রধানমন্ত্রী। ফলে ফাইনালে টাইব্রেকার ফসকানোর পরে এমনকিছু ঘটতে চলেছে তা আগেই আন্দাজ করেছিলাম। নেভিলের মতো অ্যালান শিয়েরারও বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দুকদের মুখোশ এবার খুলে দেওয়া দরকার। দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বর্ণবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে।

প্রবল চাপের মুখে পরে অবশ্য তৎপর হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য রোধ করতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে তাতেও ক্ষোভ কমছে না। ইতিমধ্যে প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন মার্কাস র‌্যাশফোর্ড। তিনি বলেন, আমি সকলের মাথা হেঁট করেছি। ফাইনালে নিজের পারফরমেন্সের জন্য সব সমালোচনা সহ্য করতে আমি প্রস্তুত। পেনাল্টি ভালো নিতে পারিনি। কিন্তু আমি কে এবং আমার পরিচয় নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নই। কারও কাছে এই ব্যাপারে ক্ষমা চাইব না। ২৩ বছরের তারকা আরও বলেন, থ্রি লায়ন্সের জার্সি গায়ে চাপানোর চেয়ে গর্বের আর কিছুই হয় না। সেই অনুভবের ভিত্তিতে বলতে চাই, আমি মার্কাস র‌্যাশফোর্ড, দক্ষিণ ম্যাঞ্চেস্টারের ২৩ বছরের একজন কৃষ্ণাঙ্গ। আমার আর কিছু না থাকলেও এই পরিচয়টুকুই যথেষ্ট। আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব। আমরা ঘুরে দাঁড়াবোই।

ইংল্যান্ডের কোচ সাউথগেট জানিয়েছেন, গোটা ঘটনাই ক্ষমাহীন অপরাধ। ইতিমধ্যে যৌথ তদন্ত শুরু করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ব্রিটেনের ফুটবল পুলিশিং ইউনিট। চুপ থাকেননি দল অধিনায়ক হ্যারি কেন। র‌্যাশফোর্ডদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, যারা দেশের ফুটবলারদের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করছেন তারা কিছুতেই ইংল্যান্ডের সমর্থক হতে পারেন না। এমন সমর্থক আমরা চাই না। দল নিঃসন্দেহে সমর্থন আশা করে, কিন্তু এই ধরনের বর্বর আচরণ নয়। একই সুর শোনা গিয়েছে মিডফিল্ডার কেলভিন ফিলিপ্সের গলাতেও। র‌্যাশফোর্ড পাশে পেয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেকেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু না বললেও ইংরেজ স্ট্রাইকারকে মেসেজে বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ড টিমের পাশে দাঁড়িয়েছে এফএ, উয়েফার মতো সংস্থাও। সবমিলিয়ে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অ্যাডভান্টেজ র‌্যাশফোর্ডরা।