গোরুর উপকারিতা কী কী, এবার পরীক্ষা নেবে ইউজিসি

224

নয়াদিল্লি : ছোটবেলায় পঠনপাঠনে প্রায়ই দেখা যেত একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন। ২০০ শব্দের মধ্যে গোরুর উপকারিতা নিয়ে রচনা লেখা। পরবর্তীকালে আধুনিক শিক্ষা ও পঠনপাঠনে বৈজ্ঞানিক প্রচার-প্রসার ঘটায় স্কুল সিলেবাস থেকে তা ক্রমশ লোপ পেয়েছিল। এবার সেই হারানো স্মৃতিই নতুন করে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার। ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয়স্তরে আয়োজিত হতে চলেছে এক অভিনব গোরুর রচনা লেখা পরীক্ষা। পরিচালনায় ইউজিসি। অত্যাশ্চর্য এই পরীক্ষা নিয়ে তুমুল জল্পনা ছড়িয়েছে।

কেন্দ্রের শাসকদলের গো-প্রীতির কথা কারও অজানা নয়। গোবলয় থেকে উঠে আসা সংস্কৃতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় শাসকদলের গো-ভক্তি, আনুগত্য, নিবেদন প্রশ্নাতীত। গো মাতার সম্মানরক্ষায় বহুবার রক্তপাতও ঘটেছে এই দেশে। এবার সমাজের নানাস্তরে গোরুর উপকারিতার কথা বিজ্ঞানসম্মতভাবে পৌঁছে দিতে অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ২৫ ফেব্রুয়ারির সর্বভারতীয় স্তরে এক বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। কামধেনু গো-বিজ্ঞান প্রচার-প্রসার শীর্ষক এই পরীক্ষাটির সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি। উদ্দেশ্য হল দেশজুড়ে গোরুর বিজ্ঞানসম্মত উপকারিতা নিয়ে চর্চা। অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, হায়ার সেকেন্ডারি ও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোনও পড়ুয়া। এছাড়া সাধারণ মানুষও চাইলে এই পরীক্ষায় বসতে পারেন। এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা ১২টি আঞ্চলিক ভাষায় পরীক্ষা দিতে পারবেন। সম্প্রতি এই পরীক্ষা পরিচালন করার আবশ্যিকতা জানিয়ে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ইউজিসির সচিব রজনীশ জৈন।

- Advertisement -

 তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের মৎস্য উৎপাদন, ডেয়ারি ও প্রাণী উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ নির্মিত হয়েছে ২০১৯ সালে। আয়োগে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতে এই গোবিজ্ঞান পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। উপাচার্যরা গোরুর উপকারিতা, লাভজনক অবদান নিয়ে আয়োজিত পরীক্ষার প্রচার-প্রসার নিয়ে যাতে উদ্যোগী হন তার দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন জৈন। সমস্ত পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হবে গোকল্যাণ নিয়ে বিশেষ শংসাপত্র।

প্রসঙ্গত, জানুয়ারি মাসে সর্বপ্রথম এই পরীক্ষার কথা জানান রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ প্রধান বল্লভভাই কাঠারিয়া। তিনি বলেন, দেশের নবপ্রজন্মের মধ্যে গো মাতার অপরিহার্যতা তথা উপকারিতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। দেশের প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রায় সকল সদস্য গো-সেবা করে থাকেন। বৈদিক যুগ গোমাতাকে বিশেষ মর্যাদা দিত। দুর্ভাগ্যক্রমে এই যুগে গো মাতাদের স্থান হয়েছে কসাইয়ের দোকানে। এই প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই গোরুর রচনা পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার দাায়িত্বই ইউজিসি-র ঘাড়ে এসে পড়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি গোরুর উপকারিতা শীর্ষক এই অভিনব পরীক্ষায় কতজন এগিয়ে আসেন, এখন সেটা দেখার অপেক্ষা।