তিনসুকিয়া, ২ নভেম্বরঃ অসমের তিনসুকিয়ায় বাঙালি-হত্যায় তাদের কোনও হাত নেই বলে দাবি করল আলফা(ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসম)। শুক্রবার সকালে এক বিবৃতি প্রকাশ করে ওই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে তারা।
প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা, ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসম(ইনডিপেন্ডেন্ট), এটা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, ১ নভেম্বর তিনসুকিয়ার সাদিয়া সাইখোয়াঘাটের গুলি চালানোর ঘটনার সঙ্গে আমাদের সংগঠন কোনওভাবেই জড়িত নয়।’
অসমের এই গণহত্যার সঙ্গে আলফা(আই)-র জঙ্গিরা জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে আজ এই জঙ্গিগোষ্ঠী তা অস্বীকার করায় ঘোরালো হচ্ছে পরিস্থিতি। আলফার দাবি সত্যি হলে, এর পেছনে আরও কোনও বড় চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে ধন্দ। অনেকের মতে, এই ঘটনা এনআরসি-বিতর্কের পর বাঙালিদের ভয় পাইয়ে দেওয়ার কৌশলও হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, অসম-অরুণাচল সীমান্তের কাছে সাদিয়ার কাছে একটি দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন সুবোধ দাস, শ্যামল বিশ্বাস, অবিনাশ বিশ্বাস, অনন্ত বিশ্বাস ও ধনঞ্জয় নমশূদ্র। রাত ৯টা নাগাদ হঠাৎই সেনার উর্দি পরা ছয় জন বন্দুকধারী সেখানে হাজির হয় ও তাঁদের তুলে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে নিয়ে যায়। সেখানেই তাদের দাঁড় করিয়ে একের পর এক যুবককে গুলি চালিয়ে হত্যা করে তারা। আবার অন্য একটি সূত্রের দাবি, ওই চায়ের দোকানেই যুবকদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। বিভিন্ন মহলে তীব্র নিন্দা করা হয় এই ঘটনার।
এই ঘটনার প্রতিবাদে খোলা হয়নি কোনো দোকানপাট। টায়ার পুড়িয়ে দেখানো হচ্ছে প্রতিবাদ। তিনসুকিয়ায় আজ ১২ ঘণ্টার বনধ ডেকেছে অল অসম বেঙ্গলি ইউথ স্টুডেন্টস ফেডারেশন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দোষীদের কঠোর শাস্তির দেওয়া হবে জানান তিনি।  গভীর রাতে তিনি ট্যুইট করে বলেন, ‘অসমের ঘটনার প্রতিবাদে ২ নভেম্বর শিলিগুড়ি ও কলকাতা-সহ উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস।’