পাল-সেন আমলের কষ্টিপাথরের উমা-মহেশ্বর মূর্তি উদ্ধার বর্ধমানে

295

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নশালায় ঠাঁই পেতে চলেছে দামোদর থেকে উদ্ধার হওয়া পাল-সেন আমলের কষ্টিপাথরের তৈরি প্রাচীন উমা-মহেশ্বর মূর্তি। কিছুদিন আগে দামোদরে স্নান করতে নেমে এই মূর্তিটি পেয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বামুনিয়া গ্রামের মেটে পরিবারের এক সদস্য। মূর্তিটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তিনি পুজোপাঠও শুরু করে দিয়েছিলেন। তা নিয়ে আলোড়নও পড়ে গিয়েছিল এলাকায়।

প্রাচীন এই মূর্তি উদ্ধারের বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পারেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউরেটর রঙ্গনকান্তি জানা। তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয় তরফে যোগাযোগ করা হয় রায়না থানায়। বুধবার রায়না থানার পুলিশ মেটে পরিবারের কাছ থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করেছে। পুলিশের সাহায্যে বৃহস্পতিবার থেকেই মূর্তিটি ঠাঁই পাবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নশালায়। মূর্তিটি কালো কষ্টি পাথরের উপর খোদাই করা।

- Advertisement -

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউরেটর রঙ্গনকান্তি জানা জানিয়েছেন, মূর্তিটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নশালায় দেওয়ার ব্যাপারে মেটে পরিবার রাজি হয়েছেন। রঙ্গনবাবু বলেন, জানতে পেরেছি মূর্তিটি সাড়ে তিন ফুট লম্বা ও আড়াই ফুট চওড়া। মূর্তিটি কষ্টিপাথরের তৈরি উমা-মহেশ্বর মূর্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নশালা সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের সংগ্রহশালাটি ৬০ বছরের পুরোনো। সেখানে বহু প্রাচীন মূর্তি সহ রাজাদের অভিষেকের ছবিও রয়েছে। এবার রায়নার বামুনিয়ার মেটে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া প্রাচীন মূর্তিটিও সেখানে ঠাঁই পাবে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, মূর্তিটি শৈলী আদি-মধ্য যুগ অর্থাৎ পাল-সেন আমলের। কালো পাথরের উপর খোদাই করা ওই মূর্তিটির একদিকে রয়েছেন উমা। উমার পাশে রয়েছে ষাঁড়। তার নিচের দিকে রয়েছে সিংহ মূর্তি। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) প্রাক্তন অধিকর্তা গৌতম সেনগুপ্ত মূর্তিটির ছবি দেখে বলেন, মূর্তিটি আদি-মধ্য যুগের মূর্তি বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে মূর্তিটি বাংলার বিশিষ্ট শিল্পরীতির বিশেষ নিদর্শন।

রায়নার বামুনিয়া গ্রামের মেটে পরিবারের সদস্য মনি মেটে বলেন, দামোদরে স্নান করতে গিয়ে আমি মূর্তিটি পাই। মূর্তিটি বাড়িতে এনে পুজোও শুরু করেছিলাম। প্রাচীন মূর্তিটি সরকারি সম্পত্তি বলে পুলিশ আমাদের জানায়। আমরা প্রশাসনকে ওই মূর্তিটি ফিরিয়ে দিয়েছি।