বেকারত্বের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী যুবক

156

বর্ধমান: লেখাপড়া শিখেও জোটেনি চাকরি।বেকারত্বের জ্বালা আর সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যারই পথ বেছে নিলেন এক শিক্ষিত যুবক। মৃতর নাম সন্ন্যাসী ঘোষ (৩৩)। মর্মান্তিক এই ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিত পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এমনকি ভোটের মুখে বেকারত্ত্বের জ্বালায় এক শিক্ষিত যুবকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক হলেও  শোরগোল ফেলে দিয়েছে। শনিবার কালনা মহকুমা হাসপাতাল পুলিশ মর্গে মৃত ব্যক্তির দেহের ময়নাতদন্ত হয়।পূর্বস্থলী থানার পুলিশ যুবকের  মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুর গ্রামের ঘোষপাড়ায় বাড়ি সন্ন্যাসী ঘোষের।

পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন, ইংরাজি অনার্স নিয়ে স্নাতক হবার পর বিএড কোর্সও সম্পূর্ণ করেছে। মৃতের আত্মীয় কৃষ্ণ ঘোষ জানিয়েছেন, সন্ন্যাসীর অল্প শিক্ষিত বন্ধুরা চাকরি পেয়ে গেলেও ভাগ্যের পরিহাসে সন্ন্যাসী বেকার রয়ে থাকে। অনেক চেষ্টা করেও নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার তুল্য একটা চাকরি পাওয়া থেকে সন্ন্যাসী বঞ্চিতই রয়ে যায়। চাকরি না মেলায়  সন্ন্যাসী মানসিক  হতাশায় দিন কাটাচ্ছিল।

- Advertisement -

মৃতের আত্মীয় কৃষ্ণ ঘোষ সহ পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে অবিবাহিত সন্ন্যাসী নিজের ঘরে শুতে চলে যায়। অন্যদিন শুয়ে পড়ার সময়ে সন্ন্যাসী ঘরের আলো নিভিয়ে দিত। কিন্তু শুক্রবার রাতে সন্ন্যাসীর ঘরে আলো জ্বলতে দেখে পরিবারে সকলের সন্দেহ হয়। কারণ জানতে পরিবারের লোকজন দরজায় ঠেলা দিতেই বুঝতে পারেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রয়েছে। দরজায় ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করা হলেও সন্ন্যাসীর কোন সাড়া মেলে না। এরপর যুবকের বাবা ও মা বাড়ির পিছনের দিকের জানালা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখেন তাঁদের ছেলের দেহ ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলছে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। বেকারত্বের জ্বালায় এক শিক্ষিত বেকার যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।