স্ত্রীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা যুবকের

286

রায়গঞ্জ: স্ত্রীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করল এক যুবক। রবিবার রায়গঞ্জ থানার বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝিটকিয়া গ্রামের ঘটনা। পুলিশ শোয়ার ঘরের দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম সুরজিৎ দাস(২৮)। তিনি দিল্লিতে একটি কোম্পানির ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। লকডাউনের জেরে মাস দুয়েক আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

পরিবার সূত্রে খবর, মৃত যুবকের স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তা নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তা উপেক্ষা করে গৃহবধূ। ফলে অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত।

- Advertisement -

মৃতের পরিবারের দাবি, দিন ছয়েক আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় ওই গৃহবধূ। এরপর রায়গঞ্জ থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে বিয়ে বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা পণ নেওয়ার অভিযোগ করেন। শনিবার রাতে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করতে যায়। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে দরজা লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে অভিযোগ।

মৃতের বাবা পরিতোষ দাস বলেন, “বৌমার মিথ্যে মামলার জন্য আমার ছেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হল। এই আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে স্ত্রী লিপিকা দাস সহ মোট তিন জনের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

রায়গঞ্জ থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “লিপিকা দেবী দিন কয়েক আগে ২৫ লক্ষ টাকা পণ নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন রায়গঞ্জ থানায়। শনিবার রাতে ওই যুবককে আটক করতে যাওয়া হলেও না বাড়িতে না পেয়ে ফিরে আসতে হয় পুলিশকে। এরপর রবিবার সকালে তাঁর শোয়ার ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করার পাশাপাশি মৃত যুবকের বাবা তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ওই যুবকের বাবা পরিতোষ দাসের আরও অভিযোগ গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর মদত দিচ্ছিল আমার বৌমাকে। মাতব্বরদের ইন্ধনে ক্রমাগত হুমকিতে রীতিমতো সন্ত্রস্ত যুবক বাড়িছাড়া হয়ে আত্মীয়, বন্ধুদের বাড়িতে পালা করে থাকতে বাধ্য হচ্ছিল। গতকাল পুলিশ আসতেই রীতিমতো ভেঙে পড়ে ওই যুবক। এদিন সকালে বাড়িতে ফিরে শোয়ার ঘরের দরজা লাগিয়ে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। বৌমা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন মৃত যুবকের বাবা।