কুশপুতুল দাহ করে ভূত তাড়ানোর উৎসব কার্তিক সংক্রান্তিতে

105

ফুলবাড়ি: ‘ইচার মুইরা, বৈচার মুইরা। ভূত যায়রে, দক্ষিণ মুইরা। ভালা আসে, ভুইল্যা যায়। মশা মাছি দূর হয়। লক্ষ্মী আসে অলক্ষ্মী যায়।’ প্রচলিত এই মন্ত্র উচ্চারণ করে বেশ কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে যুগ যুগ ধরে কার্তিক সংক্রান্তির দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ভূত তাড়ানো উৎসব। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের বড় শৌলমারি, ফুলবাড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব।

কথায় বলে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর। পঞ্জিকাতে কোথাও ভূত তাড়ানোর উৎসবের কথা উল্লেখ না থাকলেও মনের বিশ্বাসে যুগ যুগ ধরে গ্রামাঞ্চলে নমঃশূদ্র সহ বেশকিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই উৎসবে এখন অনেকটা ভাঁটা পড়ে গেছে। অনেক বাড়িতে এখন এই উৎসব পালন করা হয় না।

- Advertisement -

দরিবশ ফুলবাড়ি এলাকার সূর্য মণ্ডল, রামপদ সরকাররা জানান, ভূতের কুশপুতুল বানানো হয় পাটকাঠি দিয়ে। চিংড়ি, খলিসা মাছ, মশা, মাছি, মুড়ি ভাজার বালি ধানের তুষ, বাসি ছাই কচুর পাতায় বেঁধে ভূতের মুণ্ডুহীন কুশপুতুলের গয়না তৈরি করা হয়। সন্ধ্যায় মুণ্ডুহীন কুশপুতুলে আগুন ধরিয়ে কুলো বাজিয়ে উচ্চঃস্বরে প্রচলিত মন্ত্র উচ্চারণ করে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে দৌড়ে ভূত তাড়ানো হয়। এই উৎসব পালন করলে বাড়ির অশুভ শক্তি, মশা মাছি ইত্যাদি দূর হয় বলে গভীর বিশ্বাস স্থানীয় মানুষের।