জলপাইগুড়ি : সময়মতো জেড ফর্ম না মেলায় মর্গে থাকা দাবিদারহীন মৃতদেহ সৎকার করতে পারছে না জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রতিদিন দু-একটি করে এমন মৃতদেহ জমা হচ্ছে মর্গে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে মৃতদেহ জমে থাকায় মর্গ চত্বরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিষয়টি একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে জানালেও কাজ হয়নি। দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল চত্বরে জেলার একমাত্র চালু মর্গটি রয়েছে। একসময় মর্গটি বর্তমান জরুরি বিভাগের পাশে ছিল। আটের দশকে সেই মর্গটি বন্ধ করে নার্সিং হস্টেলের পাশে নতুন মর্গ চালু করা হয়। ওই মর্গে ৮টি মৃতদেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেখানে এখন অনেক বেশি মৃতদেহ রাখতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫-৬টি মৃতদেহ মর্গে আসে। যার মধ্যে গড়ে এক তৃতীযাংশ মৃতদেহ পরিচয়হীন হওয়ায় সেগুলি মর্গেই থেকে যায়। বছর দেড়েক আগে একবার মর্গের সব দাবিদারহীন দেহের সৎকার করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর এই কাজ না হওয়ায় ফের মৃতদেহের স্তূপ জমেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন মর্গে ৩০টির বেশি মৃতদেহ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেহগুলি গাদাগাদি করে রাখার ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

- Advertisement -

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিময় অনুসারে মর্গে কোনো দাবিদারহীন মৃতদেহ রাখার ক্ষেত্রে এক্স ফর্ম পূরণ করে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। সেই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করা হয়। এজন্য জেলার সমস্ত থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। মৃতদেহের কোনও দাবিদার না থাকলে ১৫ দিন পর তা মর্গ থেকে বের করার জন্য পুলিশের তরফে ওয়াই ফর্ম পূরণ করে জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে জেড ফর্ম পূরণ করে মৃতদেহ সৎকার করার জন্য স্থানীয় পুরসভাকে বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই জেড ফর্ম না থাকায় মৃতদেহ সৎর করার জন্য পুর কর্তৃপক্ষকে বলা যাচ্ছে না। ফলে দেহগুলিও সরানো য়াচ্ছে না।

এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, দাবিদারহীন মৃতদেহ মর্গ থেকে সরানোর জন্য কয়েকবার জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আমাদের জানানো হয়েছে, জেড ফর্ম না থাকার কারণে মর্গ থেকে মৃতদেহ সরানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে জলপাইগুড়ির জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ করবেন।