নয়াদিল্লি, ৭ মার্চঃ বছরে দুকোটি বেকারের চাকরির প্রতিশ্রুতিই সার। অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট একেবারে উলটো কথাই বলছে। ভারতে বেকারি লাফিয়ে বাড়ছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুযারি মাসে দেশে বেকারির হার বেড়ে গিয়েছে ৭.২ শতাংশ, যা গত তিন বছরে সর্বোচ্চ। বুধবার সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিযান ইকোনমি (সিএমআইই)-র প্রকাশিত রিপোর্টে এই তথ্য মিলেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর দেশে কর্মহীনতার ছবি এতটা বেহাল কখনও হযনি। এর আগে গত তিন বছরে বেকারির হার সর্বোচ্চ ছিল ২০১৮-র ফেব্রুযারিতে, ৫.৯ শতাংশ। লোকসভা ভোটের আগে সেই রেকর্ডও ভেঙে পড়ল।

সংস্থার প্রধান, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহেশ ব্যাস বলেন, চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা কমা সত্ত্বেও বেকারত্বের হার বেড়েছে। ফেব্রুযারির হিসেবে ভারতে এই মুহূর্তে চাকরিজীবীর সংখ্যা ৪০ কোটি। গতবছর এই সংখ্যাটি ছিল সামান্য বেশি, ৪০ কোটি ৬০ লক্ষ। দেশজুড়ে সর্বস্তরে সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্ট দিয়েছে সিএমআইই। ভোটের মরশুমে এমন রিপোর্টে মাথায হাত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সিএমআইই-র তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে দেশে ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। ২০১৬ সালে নোটবন্দির পর এবং ২০১৭-য় জিএসটি চালু হওয়ার পর থেকে ভারতে ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে হয়েছে বহু ছোটো ব্যবসাযী, দোকানকারকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পুঁজির বহু ব্যবসাযী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সংসদে দাবি করা হয়, নোটবন্দির প্রভাব ছোটো ব্যবসা ও চাকরিজীবীদের উপর পড়েনি।

ন্যাশনার স্যাম্পেল সার্ভে অর্গানাইজেশন (এনএসএসও)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা থেকে জানা যায, ২০১৭-১৮ সালেই ভারতে বেকারির হার ছিল গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, শতাংশের বিচারে যা ৬.১। দেশে কর্মসংস্থানহীনতার চিত্রটাও উঠে এসেছিল ওই রিপোর্ট থেকে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, আগামী বছরগুলিতে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। এনএসএসও-র সমীক্ষা রিপোর্ট আরও জানিয়েছিল, ১৯৭৩-এর পর সবচেযে বেশি বেকারির হার দেখা যায় ২০১৭-১৮ সালে। বেকারির হার ২০১১-১২ সালে ছিল ২.২ শতাংশ। বেকারির হার ছিল গ্রামে ৫.৩ এবং শহরে ৭.৮। গত কয়েক বছরে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা লাফিযে লাফিযে বেড়েছে। নোটবন্দি আর জিএসটি সেই সম্ভাবনা আরও উসকে দিয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ২০১৪-য় লোকসভা ভোটের আগে সেদিনের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল, দেশে বেকার সমস্যার সমাধান। এবারের ভোটে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করতে পারার জন্য প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে প্রধানমন্ত্রীকে।