মহম্মদ হাসিম, খড়িবাড়ি : খড়িবাড়ি ব্লকের বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাইমতি নদীর সেতু ভেঙে গিয়ে বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। নদী পারাপারের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রায় ২৫ বছর আগে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের উদ্যোগে বুড়াগঞ্জের হাতিডোবা থেকে রাইমতিজোত এলাকার মাঝে রাইমতি নদীর উপর চারটি হিউমপাইপ দিয়ে নদী পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বছর দুয়েক আগে বর্ষায় নদীর জলে হিউমপাইপগুলি ভেসে যায়। এলাকাবাসীর আবেদনের পর নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়। কিন্তু তিনটি পিলার তৈরির পর গত সাত মাস ধরে সেই কাজ থমকে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ সিংহ, মলিন সিংহ, দীনেশ বর্মন জানান, সেতুর অভাবে তিন চাকা বা চার চাকার গাড়ি নিয়ে এই পথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বছরের অন্য সময়ে হেঁটে নদী পারাপার করা গেলেও বর্ষায় যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে য়ায়। চারটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, একটি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা রোজ এই পথে যাতায়াত করে। গর্ভবতী ও রোগীদের এঅই পথেই খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল বা রাঙ্গালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়। কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় উৎপাদিত কৃষিজ ফসল খড়িবাড়ি বা নকশালবাড়ি বাজারে বিক্রি করতে হলে এই পথ ব্যবহার করতে হয়। হাতিডোবা, রাইমতিজোত, রামভোলা, ধুলিয়ারছাট সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষেরা বিভিন্ন কাজে এই পথ ব্যবহার করেন। এর ফলে ছোটো গাড়ি নিয়ে এই এলাকায় আসতে হলে কিলাঘাটা থেকে একটি সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বিষয়ে জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁরা জানান, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে বুড়াগঞ্জের রাজ্য সড়ক থেকে রাইমতিজোতের প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হলেও, সেতুর তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে না। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা সাবিত্রী ওরাওঁ বলেন, সেতুটি তৈরির ব্যাপারে কারও কোনো হেলদোল নেই। মহকুমা পরিষদের তরফে সেতুটি তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে মহকুমা পরিষদকে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তারা কোনো উত্তর দিচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলকেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বর্ষার মরশুমে নদীতে জল অনেক বেড়ে যায়। তখন স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকটা ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়।

এই বিষয়ে বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লক্ষ্মী বর্মন বলেন, রাইমতিজোতের সেতু সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে দুবার আবেদন করা হয়েছে। রাইমতি নদীর দুটি সেতু তৈরি করতে প্রায় নয় কোটি টাকা প্রয়োজন। প্রথমে তারা সেতুর জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেও পরে ওই বরাদ্দে সেতুর কাজ করা সম্ভব নয় বলে তারা পিছিয়ে যায়। যদিও এই বিষয়ে আলোচনার পর অবশেষে তারা রাজি হয়েছে। শীঘ্রই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।