জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা : দুই দপ্তরের টানাপোড়েনে মাঝপথে থমকে গিয়েছে সাগরদিঘি ইকো টুরিজম পার্ক তৈরির কাজ। প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। তৈরি হয়েছে পর্যটকদের জন্য চেয়ার শেডও। কিন্তু হঠাৎই সেই কাজ বন্ধ করে দেয় মৎস্য দপ্তর। সাগরদিঘিকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা তো দূরের কথা, এখন প্রকল্পস্থলে গোরু চরছে। জেলা মৎস্য দপ্তরের সহ অধিকর্তা নীলোৎপল রায় বলেন, সাগরদিঘি মৎস্যখামারকে ইকো-টুরিজম পার্কে রূপান্তরিত করার কাজ পর্যটন দপ্তর নয়,  ইংরেজবাজার ব্লক ও কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত করছিল। এই কাজের জন্য মৎস্য দপ্তর থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।

এদিকে, এই ঘটনায় জেলার পর্যটনের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, এবিষয়ে মালদার জেলাশাসক ও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর দারস্থ হব। ২০১৭ সালে তৎকালীন জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য সাগরদিঘি মৎস্যখামারকে ইকো-টুরিজম পার্কে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পর্যটকদের থাকার জন্য কটেজ, মাছ শিকারের ব্যবস্থা, বসার জন্য চেয়ার শেড, বিনোদনের জন্য রোপওয়ে, নিরাপত্তার জন্য ওয়াচ টাওয়ার তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে পাওয়া টাকায় কাজও শুরু হয়ে যায়। পর্যটকদের রাত্রিযাপনের কটেজ তৈরি হয়। পেভার ব্লক দিয়ে তৈরি হয়েছে রাস্তা। বড়ো সাগরদিঘি সহ ৪৭টি ছোটো দিঘির পাশে বসানো হয়েছে ১০৫টি চেয়ার শেড। তৈরি হয়েছে ৫টি ওয়াচ টাওয়ার। সাগরদিঘি জুড়ে লাগানো হয়েছে সোলার লাইট। এই কাজে খরচ হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। আরও বহু কাজ হওয়ার কথা। সেই কাজের টাকাও পড়ে রয়েছে। বছর দেড়েক আগে হঠাৎই সেই কাজ বন্ধ করে দেয় মৎস্য দপ্তর।

- Advertisement -

ইংরেজবাজারের বিডিও সৌগত চৌধুরি জানান, সাগরদিঘিতে ইকো-টুরিজম প্রকল্পের কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে না মৎস্য দপ্তর। সেখানে অনেক কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু মৎস্য দপ্তরের এমন সিদ্ধান্তে বর্তমানে আমরা সেখানে কোনও কাজ করতে পারছি না। এনিয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। ইকো-টুরিজম কেন্দ্রের পাশাপাশি সেখানে একটি কর্মতীর্থ গড়ে তোলারও পরিকল্পনা ছিল। আমরা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।

জেলা মৎস্য দপ্তরের সহ অধিকর্তা নীলোৎপল রায় বলেন, ১০০ দিন প্রকল্পে সাগরদিঘিতে কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত কাজ করছিল। সেখানে ইকো-টুরিজমের কোনো কাজ চলছিল বলে আমার জানা নেই। ব্লক প্রশাসন কিংবা পঞ্চায়েত থেকে আমাদের নতুন কোনও প্রকল্পের কথা জাননোও হয়নি। তবে সাগরদিঘিতে গাছ লাগানো নিয়ে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যা মিটে গিয়েছে। সম্প্রতি দপ্তরের ডিরেক্টর এখানে এসেছিলেন। তিনি নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, অন্য কোনো দপ্তর যদি এখানে কোনো কাজ করতে আসে, তবে সেই দপ্তরকে মৎস্য দপ্তর কিংবা ডিরেক্টরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।