পোষ্যদের অনুভতি মানুষের মতোই প্রখর। কখনও কখনও ওদের অনুভতি মানুষের মতোই গভীর হয। ওদেরও আসতে পারে অবসাদ। পরিবারের কোনো সদস্যের মৃতু্য, অন্য পোষ্যের সঙ্গে বিচ্ছেদ বা বাড়িতে কোনো পরিবর্তনের কারণে আপনার পোষ্যের অবসাদ হতে পারে। ওদের দিকে খেযাল রাখুন। এই আচরণগুলো দেখলে অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওদের কোনো পশুচিকিত্সকের কাছে
নিযে যান।
আপনার পোষ্য কি একেবারে খাওযাদাওযা ছেড়ে দিযেে? কিংবা একটু বেশিই খাচ্ছে? খিদে বা অ্যাপেটাইটে পরিবর্তন কিন্তু অবসাদের প্রাথমিক লক্ষণ। তাই আগে খাদ্যাভ্যাসটা ভালো করে নজর করুন।
আপনার পোষ্য কি অতিরিক্ত ঘুমোচ্ছে? এটা বোঝা অবশ্য বেশি কঠিন। কারণ কুকুররা স্বাভাবিক অবস্থায দিনে ১৪-১৬ ঘণ্টা ঘুমোতে পারে। অবশ্য সে ঘুম সবসময একটানা হয না। মাঝেমধ্যেই ঘুম থেকে উঠে পড়ে। যদি দেখেন পোষ্য সারাদিনই ঘুমোচ্ছে কিংবা কিছুতেই নড়তে চাইছে না, তাহলে দেরি না করে তাকে বিশেষজ্ঞের কাছে নিযে যান।
পোষ্যদের বেশকিছু প্রিয জিনিস থাকে। হয প্রিয খাবার, কিংবা প্রিয খেলা, অথবা প্রিয মানুষ। সারাদিনের বেশ কিছু সময সেই প্রিয সংসর্গেই কেটে যায তার। কিন্তু যদি হঠাত্ করে দেখেন, পোষ্য আর তার প্রিয নিযে উত্সাহী নয, তার প্রতি আকর্ষণ হারিযেে, তাহলে বুঝতে হবে সে অবসাদের শিকার। দিনের পর দিন এটা হতে থাকলে চিকিত্সক দেখান।
আপনার পোষ্য কি আপনার থেকে দূরে দূরে থাকে? কিছুতেই কাছে আসে না? কোনো কোণ খুঁজে নিযে একা একা সেখানে থাকে? তাহলে বুঝতে হবে তার মন ভালো নেই। এমনকী সারাদিনই যদি নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশ চাটতে থাকে, তাহলেও তা আলাদা করে নজর করুন। শারীরিক কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে এভাবে ওরা নিজেদের আরাম দেওযার
চেষ্টা করে।
পোষ্যের মনখারাপের জন্য চিকিত্সকের কাছে নিযে তো যাবেন। তবে সবচেযে বেশি দরকার আপনার নিজের হাতে যত্ন। তাকে সঙ্গ দেওযা। পোষ্যের খাওযা, ঘুম ঠিকঠাক সমযমতো হচ্ছে কিনা, তা দেখা। সেইসঙ্গে তার পছন্দের কাজগুলো একসঙ্গে করুন। বাইরে নিযে বেরোন। আপনার এই সঙ্গ দেওযার মধ্যে দিযে তার মন ভালো হযে যেতে পারে খুব তাড়াতাড়ি।