অনুমোদন ছাড়া অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ, বেতন দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়

255

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : নিয়োগের সময় নেওয়া হয়নি সরকারি অনুমোদন। তাই বেতন দিতে নারাজ রাজ্য সরকার। বছরদুয়েক আগেই টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে রাজ্য। ফলে নিজস্ব কোষাগার বা বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নের অর্থ থেকে চারশতাধিক অস্থায়ী শিক্ষাকর্মীর বেতন মেটাতে বাধ্য হচ্ছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়য় কর্তৃপক্ষ। এর জন্য প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, শূন্যপদের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় অস্থায়ী শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, ক্যাজুয়াল ক্যাটিগোরি সহ সমস্ত অস্থায়ী কর্মীকে নির্দিষ্ট হারে মাসিক বেতন এবং স্থায়ী কর্মীদের মতোই যাবতীয় সুবিধা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।

অনুমোদিত স্থায়ী পদে নিয়োগ না করে কেন অতিরিক্ত কর্মীকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে কোষাগার খালি করছে কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উন্নয়নের অর্থ বেতন মেটাতে খরচ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কাজ টাকার অভাবে আটকে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক এবং আধিকারিকদের মধ্যে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকর্মীর অনুমোদিত পদ আছে ৭০০টি। এর মধ্যে ৩০০টির কিছু বেশি পদ দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। কাজের সুবিধার জন্য যে সংখ্যক পদ ফাঁকা আছে সেগুলির জন্যই অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মী নেওয়ার কথা কর্তৃপক্ষের। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় সাড়ে চারশোরও বেশি অস্থায়ী কর্মী কাজ করছেন। এই অস্থায়ী কর্মীদের প্রত্যেকেই স্থায়ী কর্মীদের মতো সমস্ত সুয়োগসুবিধা পাচ্ছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।  তাঁদের ইপিএফ দেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বাবদ ‘নন-কোষাগার’-এর টাকা খরচ করছিল কর্তৃপক্ষ। সেটা দেখার পরেই বরাদ্দ বন্ধ করে দেয় রাজ্য। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই শিক্ষাকর্মীদের শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শূন্যপদে নিয়োগ হলেই শিক্ষাকর্মীদের বেতনের দায়িত্বভার চলে যাবে রাজ্য সরকারের কাঁধে। তখন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে বেতন দিতে হবে না। তবে গোল বেধেছে সেখানেও। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকর্মী পদে নিয়োগ হয়নি। বছর আটেক আগে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। সেইসময় প্রায় ১২ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এখন নিয়োগ হলে আগের আবেদনকারীদের সুযোগ দিতে হবে। সেটা না করলে আইনি জটিলতা হতে পারে। অস্থায়ী কর্মীদের দাবি যেহেতু তাঁরা দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন তাই অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁদের স্থায়ী পদে নিযুক্ত করতে হবে। তা না করা হলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

যেহেতু ইতিমধ্যে অনুমোদিত পদের তুলনায় বেশি সংখ্যায় অস্থায়ী কর্মী আছেন তাই তাঁদের দাবিকে প্রাধান্য দিলে আগের আবেদনকারীরা বঞ্চিত হবেন। আবার আবেদনকারীদের সুযোগ দিলে বঞ্চিত হবেন অস্থায়ী কর্মীরা। এর মধ্যে কীভাবে শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে তা নিয়ে জটিলতা ক্রমেই বাড়ছে ক্যাম্পাসে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ী শিক্ষাকর্মী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রভাতকুমার যাদব বলেন, আমরা চাই স্থায়ী পদে নিয়োগ হোক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব অর্থ উন্নয়নের জন্যই সংরক্ষিত থাকুক। একজন অস্থায়ী কর্মীকেও বঞ্চিত করা চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকার বলেন, রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে অস্থায়ী কর্মীদের জন্য তারা কোনও টাকা দেবে না। দুই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।