ভর্তির ফি হ্রাসের দাবিতে ফের পথ অবরোধ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের

35

রায়গঞ্জ: ভর্তির ফি হ্রাসের দাবিতে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ফের পথ অবরোধের ফলে নাজেহাল শহরবাসী। গত মার্চ মাসে প্রথম ভর্তির ফি হ্রাসের দাবিতে আন্দোলনে নামে পড়ুয়ারা। প্রায় ১ ঘণ্টা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এরপর তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় এই মাসের ১২ তারিখ তাঁরা আবার রাস্তা অবরোধ করে রাখে প্রায় দেড় ঘণ্টা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সেদিন অবরোধ তুলে নিলেও আজ আবার পথ অবরোধে সামিল হয় তাঁরা। বারবার পথ অবরোধের ফলে সমস্যায় পড়ছেন পথচলতি মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা রোগীদের নিয়ে আটকে পড়ছেন আত্মীয়রা।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, বারবার ফি হ্রাসের দাবিতে আন্দোলন করলেও ফি কমছে না। তাই পথ অবরোধে নামতে হচ্ছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের দাবি, পড়ুয়াদের ৩০ শতাংশ কোর্স ফি এবং অন্যান্য সমস্ত ফি মকুব করে দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে ভর্তি ফি হ্রাসের দাবিতে এর আগে দুইবার আন্দোলন করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২-৩ শতাংশের বেশি ভর্তি ফি কমাচ্ছে না। তাই করোনা পরিস্থিতিতে আজ আবার আন্দোলনের পথে যেতে হল।

- Advertisement -

রমেন সরকার নামের এক পড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের ফি ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর দাবিতে আগেও দু-তিনবার স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বলা হয়েছিল আবেদনের ভিত্তিতে ভর্তি ফি ৫০ শতাংশ কমানো হবে। কিন্তু দেখা যায় ২-৩% হ্রাস করা হয়েছে। আমরা এবার এই আন্দোলনের শেষ দেখে ছাড়ব।’ স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র কমল বর্মন জানান, বিগত ১৬ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সার্কুলার জারি করে বলে, যাদের বাৎসরিক উপার্জন দুই লাখ টাকার কম তাদের ৩০% থেকে ৫০% ভর্তি ফি হ্রাস করা হবে। আর যাদের বাৎসরিক উপার্জন দুই লাখ টাকার ওপরে তাদের ভর্তি ফি কিস্তিতে জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতিতে ভর্তি ফি অর্ধেক করা না হলে আন্দোলন চলবে।

কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের দাবি মতো সমস্ত ফি মুকুব করা হয়েছে এবং কোর্স ফি ৩০ শতাংশ মুকুব করা হয়েছে। তাই আন্দোলন করে আর কোর্স ফি কমানো যাবে না। রেজিস্ট্রার দূর্লভ সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলেটরি বডি মিটিং করে আবেদনের ভিত্তিতে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কোর্স ফি ৩০ শতাংশ মুকুব করেছে। বিপিএল তালিকা ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ৫০ শতাংশ মুকুব করা হয়েছে। সেসঙ্গে ইলেকট্রিক, গেম, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে টেকনিক্যাল সমস্যা থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের বুঝতে একটু ভুল হয়।’