বেমালুম নিশ্চিহ্ন উত্তর দিনাজপুরের আট নদী, প্রভাব জনজীবনে

54

রায়গঞ্জ: একটি বা দুটি নয় অন্তত আটটি নদীর চিহ্নই নেই তামাম উত্তর দিনাজপুরে। সেইসঙ্গে হারিয়ে যেতে চলেছে আরও চারটি নদীর জলপ্রবাহ। পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সুস্থ স্বাভাবিক জনজীবনও তাল কাটছে নদীর মৃত্যুতে। অথচ উত্তরবঙ্গের এই জেলার বুক দিয়ে বয়ে যাওয়া একের পর এক নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। রোহিতা, বিনা, কাঞ্চন, গাঞ্জার, বেরহজ, গয়রা, দোলঞ্চা, চিরামতী নদীগুলো একসময় ভরা বর্ষায় জলে টইটুম্বুর থাকত। স্রোতের আওয়াজ শোনা যেত দূরের গ্রাম থেকেও। এখন স্বাভাবিক জলপ্রবাহ দূরের কথা অনেক নদীর অস্তিত্বটুকুও পাওয়া যাবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোটা জেলায় প্রায় আটটি নদীর হদিস নেই। বেশ কিছু নদীর বুকে চলছে চাষবাস। কোথাও আবার রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে নদী দখল করা হয়েছে। স্থানীয় পটুয়া লোহাকাচি ও লাধি এলাকার সুদানী নদীর দখল নিয়েছে আমন ধান। কালিয়াগঞ্জের চিরামতীর বুকেও রমরমিয়ে চলছে চাষবাস। বিন্দোলের ভৈরবী মন্দিরের গা ঘেঁষে কাঞ্চন নদীও অস্তিত্ব সংকটে।

- Advertisement -

জলসেচ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত দাস জানান, নদীর ভাঙন ঠেকানোর একাধিক প্রকল্প রয়েছে কিন্তু নদীকে বাঁচিয়ে রাখার কোনও কর্মসূচি এই মুহূর্তে নেই। তবে, মাঝেমধ্যে একশো দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে নদী সংস্কার চলে। বর্তমানে তা বন্ধ।

রায়গঞ্জ বিভাগের বন আধিকারিক দিপর্ণ দত্ত বলেন, ‘গঙ্গাভিত্তিক শাখা ও উপনদীগুলির স্বাভাবিক জলস্তর বজায় রাখতে বনসৃজন করা হবে। মেহেগনি, জারুল, অর্জুন, চাপ, কদম, চিকরাশি প্রভৃতি গাছ লাগানো হবে শীঘ্রই। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কুলিক, সুঁই, আত্রেয়ী, পূর্নভবা, বাসবী, যমুনা এখনও ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যেও টিকে রয়েছে। তবে, যেসব নদীর পুরোপুরি মৃত্যু ঘটেনি তাদের অববাহিকায় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।‘

হরিরামপুর কলেজের ভূগোলের অধ্যাপক রূপক কুমার পাল জানান, ‘যেসব নদী মাটির তলার জলে পুষ্ট সেসব নদীর জল স্তর দ্রুত কমছে। নদীর তেজ কমে আসায় জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গাছ রোপন না করলে বাকি নদী অচিরে হারিয়ে যাবে।‘