জলপাইগুড়ির কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু

301

জলপাইগুড়ি: শিশু হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটনা ঘটল জলপাইগুড়ির কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। শুক্রবার গভীর রাতে সংশোধনাগারের মহিলা সেলে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পরেই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের তরফে বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ, কোতয়ালি থানা এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট কমিশনকে জানানো হয়েছে।

গত ১০ তারিখ জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের নির্দেশে ওই মহিলাকে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার নিয়ে আসা হয়। সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির জন্য ওই মহিলাকে মহিলা সেলের পৃথক একটি ঘরে আইসোলেট করে রাখা হয়েছিল। গতকাল গভীর রাতে মহিলা সেলে কর্তব্যরত কারারক্ষী ওই মহিলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপরই খবর যায় কর্তৃপক্ষের কাছে। চিকিৎসককে ডাকা হলে পরীক্ষার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

- Advertisement -

এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের মুখ্য নিয়ামক অপুর্ব সেন জানিয়েছেন, বিচারাধীন ওই বন্দির পরিবারকে জানানো হয়েছে। মৃতদেহ জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট কমিশনের গাইডলাইন মেনে ঘটনার তদন্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার জলপাইগুড়িতে প্রতিবেশীর আড়াই বছরের শিশুকে করলা নদীতে জলে ডুবিয়ে মারার অভিযোগ উঠে ওই মহিলার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী ওই মহিলার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই মহিলা নানা তুকতাক, টোটকা করেন। এর আগেও তুকতাকের বেশ কয়েকটি প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। এমনকি যেখান থেকে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়, সেই জায়গায় তুকতাক করার বেশ কিছু নমুনাও দেখতে পেয়েছেন তাঁরা। ঘটনায় অভিযুক্ত ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে কোতয়ালি থানার পুলিশ। গত রবিবার, আদালতের আবেদনের ভিত্তিতে তিনদিনের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হয়েছিল ওই মহিলাকে। এর পরে গত ১০ তারিখ আদালতের নির্দেশে তাকে জেল হেপাজতে পাঠানো হয়।