মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হুগলি ও কলকাতায় ২ দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু

253

কলকাতা: মাত্র রবিবার সকালে হুগলি উত্তরপাড়া থানার অন্তর্গত কোন্নগরের এস সি চ্যাটার্জি রোডের একটি বাড়ি থেকে দীপক সরকার ও ভবানি সরকার নামে এক প্রৌঢ় দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এর পরপরই রবিবার বিকেলে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির হরিদেবপুর থানা এলাকার একটি বাড়ির দরজা ভেঙে আরও এক প্রৌঢ় দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত দম্পতির নাম যথাক্রমে প্রদ্যুৎ লাহিড়ী ও প্রণতি লাহিড়ী। দুজনেরই বয়স ৭০-এর কাছাকাছি। তাঁরা অত্যাধিক মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অনুমান পুলিশের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি চাকরি করতেন। বেশ কিছুদিন আগে অবসর নেন। তাঁদের এক মেয়ে রয়েছে। তিনি চাকরি করেন। তাঁর বিয়েও দেওয়া হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। দূরে চাকরি করতেন মেয়ে। বৃদ্ধ দম্পতি সকলেই চাইছিলেন যাতে মেয়ে কাছাকাছি কোথাও পোস্টিং পান। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। আর তাঁর থেকেই ওই দম্পতি আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে তাঁর মেয়েকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

অপরদিকে, গতকাল সকালে হুগলির কোন্নগরের একটি বাড়ির দুটি ঘরে আলাদা আলাদা অবস্থায় যে দুটি ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছিল সে ব্যাপারে ওই দম্পতির একমাত্র ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ওই একই বাড়িতে রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন ওই দম্পতির একমাত্র ছেলে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা-মা’কে ডাকতে গিয়ে তিনি তাঁদের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির পুত্রবধূ পারিবারিক অশান্তির জেরে কিছুদিন আগেই বাপেরবাড়ি চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের ছেলে এমবিএ পাশ করেও কোথাও চাকরি না করে ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি তাঁর ব্যবসা ভালো চলছিল না। দুটি ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।