বাবা, মা ও ছেলের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

362

অনলাইন ডেস্ক: একই বাড়ি থেকে বাবা, মা ও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার হল। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতার ঠাকুরপুকুরের সত্যনারায়ণ পল্লিতে। যে ঘর থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই ঘরের মেঝেতে চক দিয়ে সুইসাইড নোট লেখা ছিল। চক দিয়ে লেখা ছিল- ‘আমরা তিনজনেই মৃত’।

মৃতেরা হল গোবিন্দ কর্মকার (৮০), তাঁর স্ত্রী রুনু কর্মকার (৭০) ও তাঁদের ছেলে দেবাশিস কর্মকার (৫০)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আর্থিক সঙ্কট এবং অসুস্থতার জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই তিনজন। এর জেরে তাঁরা আত্মহত্যা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দেহগুলি বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে থেকে একটি বাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাটির গায়ে লেখা ছিল- ‘সাবধান, বিষ’। ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, ওই তিনজন বিষ খেয়েই আত্মঘাতী হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোবিন্দবাবু বহুদিন ধরেই আর্থিক সঙ্কটে ভুগছিলেন। রুনুদেবী পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। দম্পতির ছেলে দেবাশিস জন্ম থেকে পঙ্গু বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি রুনুদেবী হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সেসময় চিকিৎসার জন্য বহু টাকা খরচ হয়। এর জেরে পরিবারটি আর্থিক সঙ্কটে ভুগছিল। জমানো টাকা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

এদিকে এই পরিস্তিতিতে, গোবিন্দবাবু রবিবার বাজারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সামান্য জ্বর থাকায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল তাঁকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। এরপরই কার্যত বাধ্য হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এই ঘটনায় পর থেকে ওই বৃদ্ধ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য বিদ্যাসাগর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।