মদ খেয়ে অশান্তির জেরে আত্মঘাতী যুবক, দাবি পরিবারের

252

পুরাতন মালদা: লকডাউনে একে কাজ নেই। সংসারে দুবেলার অন্ন সংস্থানের অভাব। তার ওপর মদ খেয়ে অশান্তি। সেই অশান্তির জেরে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি করলেন পরিবারের লোকেরা। মদ্যপান করে অশান্তি ও তার জেরে এমন ঘটনায় ফুঁসছে গোটা গ্রাম।

ঘটনাটি পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের মেহেরপুরের। সোমবার ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মালদা থানার পুলিশ।

- Advertisement -

মেহেরপুরের বাসিন্দা সাঁজলি টুডু। স্বামীকে হারিয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে টানাটানির সংসার। সংসার চালাতে পড়াশোনায় ইতি টেনে তাঁর ছেলে শ্যামলাল টুডু (২২) ভিনরাজ্যে কাজ করেন। তাঁর মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী।

গত ১ এপ্রিল ভিনরাজ্য থেকে কাজ করে মালদায় ফেরেন শ্যামলাল। লকডাউন চলায় সাহাপুরে সরকারি কোয়ারান্টিন সেন্টারে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। ১৫ এপ্রিল সেখান থেকে ছাড়া পান তিনি। শ্যামলালের পরিবার জানিয়েছে, বাড়ি ফেরার পর মাঝেমাঝেই মদ্যপান করতে শুরু করে তিনি। রবিবার শ্যামলাল মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ফেরেন। ছেলেকে মদ খেতে বারণ করেন সাঁজলি টুডু। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পরই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান শ্যামলাল। এরপরই পাশের একটি আমবাগানে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্যামলাল আত্মহত্যা করেন বলে দাবি পরিবারের লোকেদের।

জুবের আলি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘গ্রামের বহু মানুষ মদ খেয়ে সর্বসান্ত হচ্ছেন। সংসারে অশান্তি লাগছে। অথচ সরকার মদের দোকান খোলার অনুমতি দিচ্ছে। আমরা চাই মদের দোকান বন্ধ হোক। লকডাউনে এমনিতেই উপার্জন নেই। যেটুকু টাকা আছে তা দিয়ে যদি কেউ মদ কিনে খায় তাহলে সংসারে তো অশান্তি হবেই।’ সুমিতা টুডু নামে অপর এক মহিলা বলেন, ‘মদের নেশাতেই সংসারে অশান্তি লাগছে। ওইটুকু বয়সের ছেলেটাও মদ খেয়েই আত্মহত্যা করল। মদ বিক্রি বন্ধ না হলে এরকম চলতেই থাকবে। আমরা চাই মদ বিক্রি বন্ধ হোক।’