পঞ্চায়েত সমিতির অফিস থেকে উদ্ধার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ঝুলন্ত দেহ

736

বর্ধমান: পঞ্চায়েত সমিতির অফিস চত্বর থেকে উদ্ধার হল পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম চৌধুরী মোস্তফা হোসেন ওরফে মিঠু (৪২)।

সোমবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের রায়না ১ পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের দপ্তরের বারান্দায় থাকা সিলিং ফ্যানে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়না থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে রায়না ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

- Advertisement -

এই ঘটনা জানাজানি হতেই রায়নার প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চৌধুরী মোস্তফা হোসেনের বাড়ি রায়না থানার সেহারা গ্রাম পঞ্চায়েতের আউসারা গ্রামে। তবে বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান শহরের সরাইটিকর এলাকার বাড়িতে থাকতেন।

এদিন নির্দিষ্ট সময়ে রায়না ১ পঞ্চায়েত অফিসে নিজের দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন চৌধুরী মোস্তফা হোসেন। বিকেলে অফিস ছুটি হওয়ার পর অফিস কর্মী খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের অফিস ঘর বন্ধ করতে যান। তখনই তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান ওই অফিস কর্মী।

মৃতের দাদা আজম চৌধুরী জানিয়েছেন, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার আগে তাঁর ভাই মিঠু বর্ধমান আদালতে আইনজীবীর পেশায় যুক্ত ছিলেন। তখনই বর্ধমানের সরাইটিকরে জমি কিনে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেন। সেই বাড়ির কাজও চলছে। আজম চৌধুরী জানান, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমৃলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন মিঠু। দল তাঁকে রায়না ১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মনোনিত করে। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর দু’বছরের মাথায় মিঠুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে কি কারণ থাকতে পারে, তা স্পষ্ট নয়।

এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, এদিন বিকেল ৫টার পর জানা যায়, রায়না ১ পঞ্চায়েত সমিতি অফিসের বারান্দার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দেহ ঝুলছে। সেই সময় সমিতির অফিসে অন্য সবার চেম্বার বন্ধ ছিল। তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, চৌধুরী মোস্তফা হোসেন আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃতের কাছ থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ এখনও কিছু জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।