বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু, ধৃত স্বামী ও শাশুড়ি

বর্ধমান: শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হল স্বামী ও শাশুড়ি। ধৃতদের নাম সুকুমার হেমব্রম ও টুম্পা হেমব্রম। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার আঝাপুর পঞ্চায়েতের শালমূলা গ্রামে ধৃতদের বাড়ি। মৃত বধূ কেয়া হেমব্রমের (১৮) মা ছায়ারানী কর্মকারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে জামালপুর থানার পুলিশ বধূর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। এদিনই বধূর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয় বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে। বিচারক ধৃতদের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শক্তিগড় থানার কল্যাণপুরে বধূ কেয়ার বাবার বাড়ি। তার সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে জামালপুরের শালমূলা গ্রামের যুবক সুকুমার হেমব্রমের। বছর দুই আগে তাঁরা বিয়ে করে।এই দম্পতির আটমাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, ভাব-ভালবাসা করে বিয়ে করলেও বধূর সংসার জীবন সুখের ছিল না। বধূর মা ছায়ারাণী কর্মকার পুলিশকে জানিয়েছেন, নিত্যদিন শ্বশুরবাড়িতে সকলের গঞ্জনা লাঞ্ছনা সহ্য করতে হত কেয়াকে। বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্যও স্বামী সহ শ্বশুবাড়ির লোকজন কেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করত।

- Advertisement -

ছায়ারাণী দেবী বলেন, গত রবিবার মেয়ে ফোন করে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নির্যাতনের কথা জানায়। আমি মেয়েকে বলেছিলেন, সোমবার দুপুরে শালমূলা গ্রামে গিয়ে জামাই ও শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলব। তারই মধ্যে সোমবার শ্বশুরবাড়ির ঘর থেকে উদ্ধার হয় কেয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ। ছায়ারাণী কর্মকার লিখিত অভিযোগে পুলিশের কাছে দাবি করেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর জন্য জামাই ও শাশুড়ি দায়ী। এই অভিযোগ পেয়েই পুলিশ বধূর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে।