পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম

312

হেমতাবাদ: রাজস্থান থেকে বাড়িতে ফিরছে ছেলের নিথর দেহ। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ব্লকের নওদা গ্রাম পঞ্চায়েতের রামপুর গ্রামের ঘটনা। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম আকবর আলি (২৫)। ওই যুবক রাজস্থানের সাকদোয়ারা এলাকায় ডেকোরেটার্সের কাজে কর্মরত ছিল। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার।

শুক্রবার দুপুরে আকবর আলি সহ মোট ২০ জন শ্রমিক লরিতে করে রাজস্থান থেকে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু গভীর রাতে রাজসংসদ জেলার কুমারিয়া থানা এলাকায় এক জাতীয় সড়কে দুটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় আকবর আলির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে নুর আলি, আনসার আলি, হেমাতুল্লা মহম্মদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁরা প্রত্যেকেই হেমতাবাদ ব্লকের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: দুটি ট্রাকের সংঘর্ষে মৃত ২৪ পরিযায়ী শ্রমিক, আহত বহু

ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজস্থান থেকে বিহারের পূর্ণিয়াগামী রড বোঝাই লরিতে এরাজ্যের ২০ জন পরিযায়ী শ্রমিককে তুলে দেয় রাজস্থান পুলিশ। কিন্তু রাত দু’টা নাগাদ রাজস্থানের কুমারিয়া থানা এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে খবর, আট মাস আগে গ্রামের ঠিকাদার মসিবুল হকের মাধ্যমে গ্রামের চার জন শ্রমিক রাজস্থানে ডেকোরেটরের কাজ করতে যায়।

এদিকে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর শুনে জেলা পুলিশ প্রশসান জনপ্রতিনিধিরা রামপুর গ্রামে ছুটে যান। জেলার তৃণমূল যুব সভাপতি গৌতম পাল মৃতের পরিবারকে এক লক্ষ টাকার চেক দেন। পাশাপাশি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে মৃতদেহ নিয়ে আসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। আহতদেরও বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স করেও নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন ভাড়া মেটাবে রাজ্য সরকার 

মৃতের মা আসমা খাতুন বলেন, ‘রবিবার ছেলের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আর ফিরল না।’ মৃতের বাবা মোকসেদ আলি বলেন, ‘ঠিকাদার মসিবুল হকের বিরুদ্ধে হেমতাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করব। এদিন গ্রামের লোকজনও ঠিকাদার মসিবুলের বাড়িতে চড়াও হন। গ্রামবাসীদের একাংশ মুসিবুল হকের কাছে জানতে চান লকডাউন শুরু হতেই তিনি বাড়ি ফিরলেও তাঁর সঙ্গে বাকিরা কেন ফেরেননি? যদিও মুসিবুল বলেন, ‘কে কেন বাড়ি ফিরল না, তা আমার দেখার দায়িত্ব নয়।’

পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘হেমতাবাদের চার শ্রমিক ট্রাকে করে রাজস্থান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু কুমারিয়া থানা এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতে দুটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় এক শ্রমিকের। মৃত ওই শ্রমিকের নাম আকবর আলি। ঘটনায় আরও তিন জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত ওই শ্রমিকের দেহ হেমতাবাদে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’