জীবনদায়ী স্টেরয়েড অকারণে ব্যবহার করছেন না তো

720

স্টেরয়েড নিয়ে ভুল ধারণা আছে। জীবনদায়ী এই ওষুধটির অপব্যবহার রুখতে অনুরোধ জানালেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীপঙ্কর সরকার

স্টেরয়েড শব্দটাই আমাদের কাছে বেশ ভীতিকর। হাঁপানির টান উঠলে বা কোনও জটিল অসুখে চিকিৎসকরা স্টেরয়েডযুক্ত ওষুধ দিলে সেই নিয়ে অনেকেই দোটানায় ভোগেন। অনেকে আবার স্টেরয়েড জেনে নিজে থেকেই ওষুধ বন্ধ করে দিয়ে বিপদে পড়েন। অথচ বাজারচলতি কিছু স্বাস্থ্যবর্ধক টনিক বা হার্বাল নামধারী সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার বা নানান ক্রনিক অসুখ কমানোর নামে অনেক ওষুধ আছে, যাতে প্রচুর স্টেরয়েড মেশানো থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই ব্যাপারটা সম্পর্কে একেবারে অন্ধকারে। তাই আপাতভাবে ভালো থাকার উদ্দেশে নানান হার্বাল ওষুধ দিনের পর দিন খেয়ে যান। আর এতে মেশানো স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কুফল ভোগ করেন। স্টেরয়েড কিন্তু আসলে এক জীবনদায়ী ওষুধ। এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা আছে একমাত্র ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদেরই। কিডনি বা যে কোনও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর হাঁপানির অ্যাটাকে, ভয়ানক কয়েকটি প্রাণঘাতী অসুখে স্টেরয়েডই পারে মানুষকে ভালো রাখতে। ত্বকের কয়েকটি সমস্যাতেও স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করতে হয়। ফুসফুসের নানান অসুখের চিকিৎসাতেও স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। যেমন আইএলডি, সারকয়েডোসিস, ওয়েজেনার গ্র‌্যানুলোমাটোসিস, অ্যামজা ইত্যাদি। অনেকে আবার ত্বক উজ্জ্বল করতে কিংবা স্রেফ ফর্সা হবার বাসনায় ওভার দ্য কাউন্টার স্টেরয়েড ক্রিম কিনে দিনের পর দিন মেখে চলেন। যখন ত্বক বিবর্ণ হয়ে গিয়ে সমস্যা শুরু হয়, তখনই টনক নড়ে।

- Advertisement -

কিছু কিছু গুরুতর শারীরিক অসুখে স্টেরয়েড দিতেই হয়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসক স্টেরয়েডের সাহায্য নেন। স্টেরয়েডের বেশ কয়েকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু তার জন্য এর-ওর কথা শুনে হঠাৎ ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে বিপদে পড়তে হবে রোগীকেই। আরও একটা কথা মনে রাখা উচিত যে, স্টেরয়েড খাওয়া যেমন নিজে বন্ধ করা অনুচিত, তেমনই নিজের থেকে স্টেরয়েড খেতে শুরু করাও সমান বিপজ্জনক। এছাড়া রোগী ও তার বাড়ির লোকজনদের স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা দরকার। যেমন স্টেরয়েড খেলে শরীরে সোডিয়াম ও জলের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই হাত, পা ফুলে যেতে পারে। অনেকের আবার শরীরে পটাশিয়াম কমে গিয়ে মাসল ক্র‌্যাম্প হতে পারে। স্টেরয়েড ব্যবহারে খিদে বেড়ে যায়, তাই মুখ ও পেটে চর্বি জমতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত মর্নিংওয়াক ও এক্সারসাইজ করলে সমস্যার হাত থেকে রেহাই মেলে। অনেকের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়, কাজকর্মে সমস্যা হয়। কয়েক বছর যাবৎ স্টেরয়েড খেয়ে খেয়ে হাড়ের ক্যালসিয়াম বেরিয়ে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা থাকে। তাই স্টেরয়েড খাবার সঙ্গে সঙ্গে ক্যালসিয়াম খেতে হয়। ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার যেমন ছানা, দই, সবুজ শাক ও টাটকা সব্জি খেতে হবে। স্টেরয়েডের প্রভাবে অনেকের ত্বক পাতলা হয়ে যায়। তাই চোট-আঘাত থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু যাই হোক না কেন, ওষুধের ব্যাপারে নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজেরা ওষুধ খেয়ে বা লাগিয়ে বিপদে পড়বেন না। বাড়িতে তৈরি টাটকা খাবার খান ও নিয়মিত এক্সারসাইজ করে ভালো থাকুন।