বর্ষা এলেই বন্দিদশা চৌধুরিটোলার

287

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি : বর্ষা এলেই যেন আতঙ্ক ঘিরে ধরে বাঙ্গীটোলার ৫-৬টি গ্রামে। কারণ, কালিয়াচক-২ ব্লকের এই গ্রামগুলির মূল রাস্তা গোঁসাইহাট কলোনি থেকে চৌধুরিটোলার পুরোটাই ডুবে থাকে জলের তলায়। নইলে সেখানে ভরতি থাকে কাদা। সামান্য বৃষ্টি হলেই তাই নিত্যদিনের সমস্যায় জেরবার হন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলাপরিষদকে জানিয়ে কোনো ফল না হচ্ছে না। বর্ষা এলেই আমাদের রীতিমতো ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হয়। এখনও যদি এই সমস্যার কোনো সুরাহা না হয়, তাহলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব। বর্ষা এলেই চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বাঙ্গীটোলা, পঞ্চানন্দপুর, উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের। স্কুল-কাজে যাওয়া তো দূরের কথা, কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই তখন বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

গোঁসাইহাট থেকে চৌধুরিটোলা পর‌্যন্ত রাস্তাটি এলাকার সবচেয়ে পুরোনো একটি রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে বাঙ্গীটোলা, পঞ্চানন্দপুর, উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোঁসাইহাট (কলোনি), চৌধুরিটোলা, নরসিংহটোলা, রবিরামটোলা, মেঘুটোলা, দামোদরটোলা, চাঁদপুর গ্রামের কয়ে হাজার মানুষ হাট ও বাঙ্গীটোলা হাসপাতালে য়ান। এছাড়া বাঙ্গীটোলা হাইস্কুল, গোঁসাইহাট এমএসকে সহ একাধিক স্কুলেও ছাত্রছাত্রীদের এই রাস্তা দিয়ে য়েতে হয়। কিন্তু বেহাল এই রাস্তার কারণে সেখান দিয়ে হাঁটা-চলা করাই বর্তমানে দায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় গোঁসাইহাট- চৌধুরিটোলা গ্রামের মানুষেরা। গ্রামবাসী  সাইফুদ্দিন আহমেদ, সফিকুল শেখ, হায়াত আলি, অশোক মণ্ডল, দিলীপ মণ্ডল, মাইনুল হক, তাজিরুদ্দিন শেখ, নাইমুদ্দিন আহম্মেদরা জানান, কয়ে মাস কার্যত আমাদের বন্দিদশায় কাটাতে হয়। কোথাও যাতায়াত করাও আমাদের পক্ষে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রামের মূল রাস্তা জলকাদা ভরে গিয়ে পুরো খেতে পরিণত হয়। বাড়ি থেকে বেরোতে হলে আমাদের অন্য কোনো পোশাক সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয়, য়াতে শুকনো জায়গায় পেঁছে আমরা তা বদল করে নিতে পারি। স্থানীয় বাঙ্গীটোলা হাইস্কুলের ছাত্রী আইসা খাতুন, রবিনা খাতুন, ডিএসকেবি হাই মাদ্রাসার ছাত্রী সুমা খাতুন, সাইনুর খাতুন,  পাঁচকড়িটোলা হাইস্কুলের ছাত্রী সাথি মণ্ডলরা জানায়, বর্ষাকালে আমরা প্রতিদিন স্কুলে যেতে পারি না। বেশিরভাগ সময়ে রাস্তায় পড়ে গিয়ে জামাকাপড়ে কাদা লেগে যায়। ফলে আবার বাড়ি ফিরে আসতে হয়। ফলে বছরের দু-তিনটে মাস আমাদের রীতিমতো আতঙ্কে কাটাতে হয়। গ্রামবাসীরা জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সর্বস্তরে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শবনম পারভিনও এই বিষয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে একমত। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাস্তাটি। আমি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও সভাপতিকেও বিষয়টি  জানিয়েছি। এব্যাপারে বাঙ্গীটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সান্তারা খাতুন জানান, ওই রাস্তাটি তৈরির জন্য  আমরা জেলা পরিষদকে জানিয়েছি। সম্ভবত জেলা পরিষদের মাধ্যমে খুব শিগগিরই ওই রাস্তাটি তৈরি করা হবে।

- Advertisement -