লাগামহীন বিতণ্ডায় মনে হয় শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছি

67

লাগামহীন বিতণ্ডায় মনে হয় শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় 

ছোট থেকে রাজনীতির আবহে বড় হয়েছি। বাড়িতে রাজনৈতিক বাতাবরণ বরাবর ছিল। ঠাকুরদা, কাকা-জ্যাঠাদের মুখে ছোটবেলায় শুনতাম স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্প। বাবা ছিলেন ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সে। চাইনিজ ওয়ার-এর সময়ে গিয়েছিলেন যুদ্ধে। ফলে খুব ছোট বয়স থেকে রাজনৈতিক আদর্শ-মতাদর্শের প্রতিফলন বাড়ির পরিবেশে দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। দেখেছি, ভোটের রেজাল্ট প্রকাশের দিন কীভাবে বাবা-কাকারা অধীর আগ্রহে রেডিও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খবর শোনায় ব্যস্ত থাকতেন। ভাসা ভাসা সেই মনে পড়া দৃশ্যের পাশাপাশি আজ যখন দেখি প্রতিদিন প্রচারমাধ্যমে বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ভোট ঘিরে লাগামহীন, রুচিহীন বিতর্ক-বাকবিতণ্ডা, তখন কেমন যেন মনে হয় বুঝি শালীনতার সীমা ছাড়াচ্ছি আমরা।

- Advertisement -

আমার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অন্যরকম ছিল। তখন রাজনীতির ব্যাপারে মানুষ অনেক সিরিয়াস ছিলেন। রাজনীতি নিয়ে তাঁরা পড়াশোনা করতেন। দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, তার পালাবদল, মতাদর্শের মিল-অমিল, সব কিছুই তাঁদের গোচরে থাকত। বহু শিক্ষিত রাজনীতিবিদ তখন রাজ্যে ছিলেন। এখন যেন সেই রাজনীতির মঞ্চ অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। সহজ হয়ে গিয়েছে ভোটে টিকিট পাওয়ার রাস্তা। ছাত্র রাজনীতি আমি করিনি, তা নয়। তবে সরাসরি কোনও দলের হয়ে করিনি। বেথুন কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সব ক্ষেত্রেই নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছি। নানা ইভেন্ট করেছি। আমার জনপ্রিয়তা দিয়ে ভোটে সাফল্য পেয়েছি। যদিও সেইসময়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে দলাদলি ছিল। কিন্তু এমন ব্যক্তিগত রেষারেষি-আক্রোশ কখনও দেখিনি। এমন প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়িও দেখিনি।

এখন ভোটের বঙ্গে নানা রঙ্গ দেখে সত্যি যেন হতাশই হচ্ছি। এমনিতে আমি আদৌ নেগেটিভ চিন্তাধারার মানুষ নই। তবুও সব দেখে-শুনে মনে কেমন যেন খটকা লাগছে।

রাজনীতিতে এর আগেও কি সেলেব্রিটিরা আসেননি? অমিতাভ-জয়া বচ্চন, সুনীল দত্ত, শত্রুঘ্ন সিনহা, হেমা মালিনী, জয়াপ্রদা, অনেকেই এসেছেন। কিন্তু এখন যে হুড়মুড়িয়ে রাজনীতিতে সেলেব্রিটিদের আসার হিড়িক, তা দেখে প্রশ্ন জাগছে, এঁরা যে দলে যাচ্ছেন, সত্যিই কি তাঁরা সেই দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী? নাকি আখেরে কিছু গুছিয়ে নেওয়ার তাড়নাতেই তাঁদের আগমন? আমার কাছেও যে এমন প্রস্তাব আসেনি, তা নয়। কিন্তু আমি তাঁদের হ্যাঁ বলার আগে নিজেকে প্রশ্ন করেছি, আমি আমার শিল্পসৃষ্টিতে মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, আমি কি সেই মানুষজনের জন্য আদৌ কিছু করতে পারব? নাকি কিছু পাওয়ার কারণে রাজনৈতিক মঞ্চে পা রাখব? মনের থেকে তেমন সদুত্তর মেলেনি বলে আমার রাজনীতিতে আসা হয়নি।

যদিও আমি যথেষ্ট রাজনৈতিক সচেতন। ভালোমতো খবর রাখি, কোথায় কী হচ্ছে। সেই রাজনৈতিক ভাবনা থেকে আমার কেন্দ্র টালিগঞ্জে ভোটও দেব। ভোট আজ আর তেমন উৎসাহিত না করলেও দেব। ভোট সম্পর্কে নিরুৎসাহ হয়ে পড়ার কারণ, আমাদের যে গভীর সমস্যা, দেখছি কোথায় যেন সেই আসল সমস্যা ফোকাসড হচ্ছে না। হলেও ভোটের আগের প্রতিশ্রুতিগুলির পরে আর প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না। স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর স্বপ্নভঙ্গ হয়। তবু আমি আশাবাদী, সুন্দর সেই দিন, সেই দল আসবে, যারা আমাদের সঠিক দিশা দেখাবে।