২৯ এপ্রিল অবধি মুখে কুলুপ, নির্দেশে প্রশ্ন পদ্মশিবিরে

89

গৌরহরি দাস, কোচবিহার :  এখনও রাজ্যের বেশ কয়েকটি আসনে ভোট বাকি রয়েছে। কিন্তু তার আগেই রবিবার বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে সমস্ত জেলার দলের নেতা-নেত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দলের কোনও নেতা-নেত্রী সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনওরকম মন্তব্য করতে বা বক্তব্য রাখতে পারবেন না। দুই দফা নির্বাচন বাকি থাকতেই দলের তরফে এমন নির্দেশ জারি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষই এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। আবার দিলীপবাবু অবশ্য পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এমন কোনও নির্দেশ জারি করেননি। এতে স্বাভাবিকভাবেই গেরুয়া শিবিরের মধ্যে মতানৈক্যের বিষযটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দলের মধ্যে এমন নির্দেশের বিষযটি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘না না আমি জানি না কী করে এসব অফিস থেকে এসেছে। আমি এব্যাপারে কোনও অর্ডার জারি করিনি। আমি দেখলাম ওটা। এসব আমার জানা নেই।’ ওই নির্দেশে প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা প্রসঙ্গ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এধরনের অনেক কিছু চলছে এদিক ওদিক।’ দিলীপবাবু আরও বলেন, ‘স্পোকসম্যানদের তো কাজই হচ্ছে মিডিয়াকে বলা। ওটা আমাদের দলের লোকেরা দেখছে। কী করে এমন সার্কুলার জারি হয়েছে, কারা করেছে, কেন করেছে, সেসব দেখা হচ্ছে। ফেকও হতে পারে। যদিও ওই নির্দেশটি দেওয়া হয়েছে বিজেপির প্যাডেই। এব্যাপারে দিলীপবাবুর মন্তব্য, ওরকম সব পাওয়া যায। আমার নাম করে জেলা সভাপতি পালটে দিচ্ছে। দেখছি ওটা।’ এদিকে, এই নির্দেশ জারি করা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায বলেন, ‘এটা দলের সাংগঠনিক বিষয়। এই নিয়ে মিডিয়ার সামনে কোনও মন্তব্য করব না।’

- Advertisement -

নবান্ন থেকে ঘাসফুল সরিয়ে পদ্মফুল ফোটানোকে পাখির চোখ করেছেন বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা থেকে শুরু করে বিজেপির তাবড় তাবড় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দিনের পর দিন এরাজ্যে পড়ে থেকে বিভিন্ন সভা ও নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি করেছেন। লক্ষ্য একটাই, আগামী ২ মে রাজ্যে পদ্মফুলের ঝান্ডা সবথেকে উঁচুতে তুলে ধরা।

সোমবার ৩৪ আসনে ভোট হচ্ছে। তার পরেও আরও এক দফা ভোট বাকি থাকবে। এই দুই দফায় সামগ্রিকভাবে নবান্ন দখলের ফযসলা অনেকটাই জড়িয়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে রবিবার বিজেপির তরফে দলের রাজ্য সহ সভাপতি তথা রাজ্যের ইলেকশন অফিস ইনচার্জ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নির্দেশ জারি করেন। তাতে তিনি লিখেছেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নির্দেশ অনুযায়ী সকলকে জানানো হচ্ছে যে দলের সমস্ত সিনিয়ার নেতৃত্ব, পদাধিকারী মোর্চা এবং সেলের কেউ সংবাদমাধ্যমের কাছে আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোনওরকম স্টেটমেন্ট রাখতে পারবেন না। রবিবার রাজ্য সহ সভাপতি এই নির্দেশ জারি করার পর থেকেই বিজেপির অন্দরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয। এই পরিস্থিতিতে কেন তিনি এ ধরনের নির্দেশ জারি করলেন তা নিয়ে পরিষ্কারভাবে কেউ কিছু জানাতে পারেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু-একজন নেতা-নেত্রী জানিয়েছেন, এর আগেও অবাঞ্ছিত বিভিন্ন মন্তব্য করে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন দলেরই অনেকে। তাতে দলের ক্ষতি হয়েছে। অনেকে বিজেপিকে ভুল বুঝেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের কেন্দ্রীয নেতারা চান না য়ে রাজ্য ও জেলার নেতা-নেত্রীদের এধরনের কোনও ভুলের খেসারত দলকে দিতে হোক। সম্ভবত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই দলের রাজ্য নেতৃত্ব  এধরনের নির্দেশ জারি করেছেন।

বিজেপির কোচবিহারের জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, আমরাও এরকম নির্দেশ পেয়েছি। কেন এমন নির্দেশ জারি করা হয়েছে, তা এখনও ঠিক জানি না। তবে নিশ্চয়ই কোনও গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। বিষযটি খুব শীঘ্রই জেনে নেব। দলের জলপাইগুড়ির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, দলের নির্দেশ। এব্যাপারে মিডিয়ার কাছে কিছু বলা যাবে না। তাই কোনও মন্তব্য করব না। আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব নির্দেশ জারি করেছেন। আমরা তা পালন করব। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক রাজু সাহা বলেন, বিষযটি এখনও জানি না।