শিলিগুড়ি : ডেঙ্গু হচ্ছে, কিন্তু প্লেটলেট সেভাবে প্রয়োজন হচ্ছে না রোগীদের। ফলে প্রতিদিন প্রচুর প্লেটলেট নষ্ট হচ্ছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে। কিন্তু হঠাত্ প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে প্রতিদিনই সরকারি নির্দেশ মেনে প্লেটলেট তৈরিও করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা বলছেন, প্লেটলেট নিয়ে চিকিত্সকদের সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। দুবছর আগেও যে চিকিত্সক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্লেটলেট এক লক্ষের নীচে নামলেই রোগীকে প্লেটলেট দিতেন, এখন আর সেটা করা হচ্ছে না। চিকিত্সকরাও বুঝেছেন প্লেটলেট বেশি হলে রোগীর ক্ষতি হতে পারে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকের অধিকর্তা ডাঃ মৃদুময় দাস বলেন, এখন আর রোগীদের তেমন প্লেটলেট প্রয়োজন হচ্ছে না। নিয়মিত ডেঙ্গু হওয়ায় স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মেনেই আমাদের প্রচুর পরিমাণে প্লেটলেট মজুত রাখতে হচ্ছে। কিন্তু প্লেটলেট তিনদিনের বেশি মজুত রাখা যায় না। ফলে প্রয়োজন না হওয়ায় বাড়তি প্লেটলেট নষ্ট করে দিতে হচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরে শিলিগুড়ি মহকুমায় ডেঙ্গু থাবা বসিয়েছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং পাহাড়ে এতদিন সেভাবে ডেঙ্গুর হদিস না মিললেও এবার সেখানেও বেশ কিছু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, পাহাড় সমতল মিলিয়ে দার্জিলিং জেলা এবং কালিম্পং জেলায় এবার ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৭০০ রোগীর ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি হচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে এই বছর রোগীদের প্লেটলেট সেভাবে প্রয়োজনই হচ্ছে না। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রেরই খবর, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে দেড় লক্ষ থেকে সাড়ে চার লক্ষ পর্যন্ত প্লেটলেট থাকার কথা। কিন্তু ডেঙ্গু হলে রোগীর শরীরে প্লেটলেট কমতে থাকে। ফলে প্লেটলেট বাড়ানোর জন্য রোগীকে বাইরে থেকে প্লেটলেট দিতে হয়। শিলিগুড়ির বিশিষ্ট চিকিত্সক ডাঃ শেখর চক্রবর্তী বলেন, বছর দুয়েক আগেও ডেঙ্গু হলেই রোগীকে প্লেটলেট দেওয়া হত। কিন্তু সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমাদের, মানে চিকিত্সকদের ধারণাও পালটেছে। প্লেটলেট বেশি হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপও হতে পারে সেটা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নিয়ম অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে যদি রক্তপাত হতে থাকে এবং প্লেটলেট ২০ হাজারের নীচে থাকে তাহলে প্লেটলেট দিতে হয়। আবার সাধারণ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্লেটলেট ১০ হাজারের নীচে নামলে তবেই প্লেটলেট দেওয়া প্রয়োজন। কাজেই এবার শিলিগুড়িতে আমরা প্রচুর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পেয়েছি। কিন্তু ১০০ জনের মধ্যে পাঁচজনের হয়তো প্লেটলেট দিতে হয়েছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশ মেনে প্রতিদিনই মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকে প্লেটলেট তৈরি করা হচ্ছে। ব্লাড ব্যাংক সূত্রের খবর, প্রতিদিন ৬০-৭০ প্যাকেট প্লেটলেট বানানো হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিনের চাহিদা ২৫-৩০ প্যাকেট। ফলে প্রতিদিন প্লেটলেট ফেলে দিতে হচ্ছে। মেডিকেল ওয়েস্ট নেওয়ার জন্য প্রতিদিন য়ে গাড়ি আসে সেই গাড়িতেই প্লেটলেটের নষ্ট প্যাকেট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্লাড ব্যাংক অধিকর্তা বলেন, যে কোনো সময় প্লেটলেট প্রয়োজন হতে পারে, সেই জন্য আমাদের প্রতিদিনই পর্যাপ্ত প্লেটলেট তৈরি করতে হচ্ছে। কিন্তু প্লেটলেট তিনদিনের বেশি রাখা যায় না। তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে।