জেলা পুলিশ অফিসারের অস্বাভাবিক মৃত্যু, পরকীয়ার কারণে আত্মহত্যা দাবি স্ত্রীর

2463

বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের অফিসার সুদীপ্ত দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল। তিনি বালুরঘাট ট্রাফিক ওসি পদে কর্মরত ছিলেন। এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েনে সুদীপ্তবাবু আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

জানা গিয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ডিউটি সেরে কোয়ার্টারে ফেরার পরেই, ঘুমের ওষুধ গুলো খান। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বালুরঘাট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সুদীপ্ত বাবুর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশ মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, মালদার বাসিন্দা সুদীপ্ত কুমার দাস ১৯৯৭ সালে পুলিশের চাকরি পান। দু’বছর পরেই তিনি মালদার জেলার সোমা দাসকে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বালুরঘাট সদর ট্রাফিকের ওসি পদে ছিলেন। তিনি বালুরঘাট পুলিশ কোয়ার্টারে থাকলেও, তার স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে গঙ্গারামপুর পুলিশ কোয়ার্টারে থাকত। আট দিন আগে সুদীপ্ত বাবু তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের বালুরঘাটের কোয়াটারে আনেন। শুক্রবার অর্থাৎ আজ স্ত্রী এবং ছেলে মেয়ের বালুরঘাটে ফেরার কথা ছিল।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পর সুদীপ্ত বাবু তার স্ত্রী এবং ছেলেমেয়েদের ভালোভাবে থাকার কথা বলেন। এরপরে একসঙ্গে ঘুমের ৩০ টি ওষুধ খেয়ে নেন। বিষয়টি তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নজরে আসলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাউকে ফোন করতে দেননি সুদীপ্ত বাবু। এদিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে পরিবারের লোক বালুরঘাট থানার পুলিশকে ফোন করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের স্ত্রী সোমা দাস জানান, কুমারগঞ্জ থানায় থাকাকালীন সেখানকার এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সুদীপ্ত কুমার দাস। কুমারগঞ্জের ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীকে ব্ল্যাকমেল করত।কিছুদিন পর পর টাকা চাইত। তার স্বামী একাধিকবার ফোন কিনে দিয়েছেন ওই সিভিককর্মীকে। তিনটে অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার টাকা পাঠাত। এমনকি অন্য কেউ ফোন করে হুমকি দিত তার স্বামীকে। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন এবং ওই সিভিক ভলান্টিয়ার সঙ্গে তার স্বামীর সম্পর্ক ছিল তার যাবতীয় তথ্য রয়েছে। তিনি বিষয়টি জানার পরও তার স্বামীকে ঠিক হওয়ার কথা বলতেন। ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের ব্ল্যাকমেলের কারণে তার স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে তার দাবি। এনিয়ে তিনি পুলিশে যাবতীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত জানান, বৃহস্পতিবার রাত তিনটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ জানানো সম্ভব হবে।