প্রথমবর্ষের ডাক্তারি ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

171

রামপুরহাট: প্রথমবর্ষে পাঠরত এক ডাক্তারি ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রামপুরহাট থানা এলাকার চকমণ্ডলা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম মধুমিতা ঘোষ(২০)। বাঁকুড়ার রায়পুরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে হোস্টেলের চারতলার একটি ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই ছাত্রী। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা অবধি এবিষয়ে স্পষ্ট কোন মন্তব্য করতে নারাজ পুলিশ কর্তারা। সেক্ষেত্রে ঘটনার তদন্ত করছে রামপুরহাট থানার পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন মধুমিতা। রামপুরহাট থেকে কিছুটা দূরে চকমণ্ডলা গ্রামে মেডিকেলের হোস্টেলে থাকতেন। পড়া ছেড়ে বাড়ি ফেরার জন্য বেশ কিছুদিন থেকেই পরিবারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন তিনি। এরপরেই সোমবার তারাপীঠে আসেন তাঁর বাবা-মা। সেখানে একটি বিলাসবহুল হোটেলে ওঠেন। সেখানেই মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন তাঁরা। ফেরার সময় মেয়ের কাছ থেকে অ্যান্ড্রয়েড ফোন নিয়ে যান, বদলে একটি সাধারণ ফোন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেই খবর।

- Advertisement -

হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রীরা জানান, বাবা-মা ফিরে যাওয়ার পর থেকেই মধুমিতার মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘুম থেকে ওঠে সে। এরপর বাইরে বেরিয়ে ফের হোস্টেলে ঢোকে। সবাই পড়া শুরু করে। সেই ফাঁকে চারতলার একটি ঘরে ঢুকে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে পড়ে। দুপুরের দিকে সহপাঠীরা তাঁকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখে চারতলার একটি ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। এরপরেই হোস্টেল সুপার এবং অন্যান্যদের খবর দিয়ে দরজা ভেঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে, এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি ছাত্রীর পরিবারের লোকজনেরা।