গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু, খুনের অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে

276

তুফানগঞ্জ: গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল নাককাটি গাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিয়ালপাড়া এলাকায়। এই ঘটনায় মৃতের বাপের বাড়ির লোক খুনের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও মৃতের স্বামী এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ঘটনার খবর পেয়ে তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।  ঘটনায় মৃতের স্বামী সুবল কুমার দাস এবং সুবলের দিদি শঙ্করী দাসকে পুলিশ আটক করেছে।

পরিবার সূত্রে খবর, ২০১৩ সালে আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা কৃষ্ণা দাসের  শিয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুবল কুমার দাসের সঙ্গে বিয়ে হয়। সুবলের বাড়িতে অভাব নিত্যসঙ্গী। অভাবের মাঝেই বিয়ের কয়েক বছর পরেই ঘর আলো করে এক ফুটফুটে মেয়ের জন্মদেন কৃষ্ণা। এরপর থেকেই তার ওপর অত্যাচার শুরু হয় বলে দাবি করেন কৃষ্ণার বাপের বাড়ির আত্মীয়রা। রবিবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। রবিবার স্বামী স্ত্রী ও বাড়িতে থাকা ননাসের  সঙ্গে  বচসা হয়। সোমবার সকালেও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই এদিন বিকেলে ঘরে গলায় ফাঁস লাগায়। শেষে বাড়িতে থাকা ননাস ফাঁস থেকে নামিয়ে আনেন। আর এখানেই রহস্য জটলা বাধতে শুরু করে। ঘটনার খবর পেয়ে তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। পাশাপাশি এসে পৌঁছয় কৃষ্ণার বাপের বাড়ির লোক। কৃষ্ণার বাপের বাড়ির লোক ওই বাড়িতে এসেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কৃষ্ণার স্বামী সুবল কুমার দাস এবং ননাস শঙ্করী দাসকে আটক করে। যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মৃতার স্বামী সুবল কুমার দাস।

- Advertisement -

মৃতের মামাতো ভাই রানা দত্ত এবং অন্য এক আত্মীয় শুভাশিস দাস জানান, কৃষ্ণাকে প্রায় প্রতিদিনই মারধর করত সুবল ও তার দিদি। এই ঘটনায় অনেকবার তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোন কাজই হয়নি। শেষে এদিন মৃত্যুর পথ বেছে নেয় কৃষ্ণা। আমরা বিষয়টি নিয়ে খুনের অভিযোগ তুলে বিস্তারিত জানিয়েছি তুফানগঞ্জ থানায়। পুলিশ সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তদের কঠোর সাজার ব্যাবস্থা করুক।

মৃতের স্বামী সুবল কুমার দাস বলেন, আমি কোচবিহারে এক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করি।এদিন দিদির কাছ থেকে ঘটনার খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে আসি। তবে, আমাদের দিকে যে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে তা ভিত্তিহীন। অন্যদিকে মৃতার ননাস শঙ্করী দাস বলেন, ঘটনায় আমাদের কোন যোগ নেই। এদিন সন্ধ্যার আগে নিজের ঘরেই কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস লাগায়। তার গোঙ্গানির আওয়াজ পেয়ে দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকি। দেহ নামিয়ে আনার পর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এসে দেহ নিয়ে যায়।

তুফানগঞ্জ থানা সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে সুবল কুমার দাস এবং শঙ্করী দাসকে আটক করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পরেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।